শিশু নিরাপত্তা মামলায় মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় মেটাকে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।
আদালত মেটাকে তাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লাইক’ সংখ্যা সরিয়ে ফেলা এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এসব তথ্য না দেখানো।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন পাঠানো বন্ধ রাখতে হবে। তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময়সীমা মাসে ৯০ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টার সমান।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে নিউ মেক্সিকোর অনেক মানুষ যৌন শোষণের ঝুঁকি, শিক্ষায় ব্যাঘাত এবং মানসিক স্বাস্থ্যের নেতিবাচক প্রভাবের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিচারক স্বীকার করেছেন, শুধু মেটা নয়, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ভূমিকা রাখছে। তবে তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে মেটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের কার্যক্রম জনস্বার্থে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
মেটা জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।
অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বলেন, মেটা বহু বছর ধরে জানত তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ক্ষতি করছে, কিন্তু নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবহার ও মুনাফাকে প্রাধান্য দিয়েছে।
এর আগে মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসে আরেকটি মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্যের জন্য মেটার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলছে। এর মধ্যে ৩৩টি অঙ্গরাজ্যের যৌথ মামলা ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে একটি ফেডারেল আদালতে চলছে। টেনেসির মতো আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও আলাদাভাবে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।