এআই নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ভাবনায় যে পার্থক্য

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২০

এআই নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ভাবনায় যে পার্থক্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও চীনে প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মর্গ্যান স্ট্যানলির এক জরিপে চীনের ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার এআই ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৫৪ শতাংশ। চলতি বছরের আরেক জরিপে চীনের ৮৩ শতাংশ মানুষ এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবাকে আকর্ষণীয় মনে করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৩৩ শতাংশ।

চীনে সরকারি সেবা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। সরকারি সেবায় এআইভিত্তিক ডিজিটাল কর্মী, শিক্ষার্থীদের লেখার তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন এবং হোটেলে রোবটের মাধ্যমে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজে প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে মানুষ এআইকে আগে ব্যবহারিক ও কম খরচের প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে, পরে এর ঝুঁকি নিয়ে ভাবছে। দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে এআই চ্যাটবট এবং আগে থেকেই ব্যবহৃত অ্যাপের মধ্যে এআই সুবিধা যুক্ত করছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ, ই-কমার্স ও উৎপাদন খাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও সম্ভাব্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও গবেষকেরা প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু মনে করেন, দুই দেশের মানুষের নিজ নিজ সরকারের ওপর আস্থার পার্থক্যও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের এক জরিপে চীনের ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবাকে আকর্ষণীয় বলেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৩৩ শতাংশ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এডেলম্যানের আরেক জরিপে চীনের ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সঠিক কাজ করার জন্য তারা নিজেদের সরকারের ওপর আস্থা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৩৯ শতাংশ।

ঝুঁকি মোকাবিলায় ভিন্ন পদ্ধতি

চীনে এআই নিয়ে সতর্কতার ধরনও ভিন্ন বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সেখানে মানবজাতির বিলুপ্তির মতো বিষয় নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনার তুলনায় এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, অপব্যবহার ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশি গুরুত্ব পায়।

চীনের গোয়েন্দাপ্রধান চেন ইশিন সম্প্রতি এআইকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশলগত শিল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়ানো, রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক গোপন তথ্য চুরি এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন।

চীনে এআই ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ প্রকাশ্য বিতর্কের বদলে সরকারি মানদণ্ড, নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের এআই উত্থান

চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিও এআই গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সুপারকম্পিউটারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিতে অগ্রগতি দেশটির মানুষের মধ্যে প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি করেছে।

তবে চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে সবচেয়ে উন্নত এআই প্রসেসরের প্রাপ্যতা কম এবং মূলধন বিনিয়োগেও পার্থক্য রয়েছে। ডিপসিকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেংও চীনা ও মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় পার্থক্য হিসেবে উন্নত প্রসেসরে প্রবেশাধিকার ও বিনিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের সক্ষমতার সীমা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনে তুলনামূলকভাবে এআইকে উৎপাদনশীলতা ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন