এক্সের আইনি পদক্ষেপে ফের অচল এনিটার ও এক্সক্যানসেল
অ্যাকাউন্ট ছাড়াই এক্সের পোস্ট দেখার সুযোগ দেওয়া গোপনীয়তাবান্ধব সেবা এনিটার ও এক্সক্যানসেল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এক্সের সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপের পর সেবা দুটি বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ।
এনিটার একটি ওপেন সোর্স প্রকল্প, যার মাধ্যমে এক্সে লগইন না করেই পোস্ট দেখা যেত। এনিটারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক্সক্যানসেলসহ আরও কয়েকটি সেবা পরিচালিত হতো। গত আগস্টে এনিটারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায় এক্স।
এক্সের অভিযোগ, এনিটার তাদের এপিআই ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহারের বিধিনিষেধ এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির তথ্য সংগ্রহ করছিল। এক্সের দাবি, এনিটার তাদের নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও সেশন টোকেন ব্যবহারের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে।
আইনি নোটিশের পর এনিটার জানিয়েছিল, আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রকল্পটি চালিয়ে যাবে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এনিটার ও এক্সক্যানসেল আবার চালু হয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি বদলে যায়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর এনিটারের গিটহাব পেজ আর্কাইভ করা হয়। ফলে প্রকল্পটি এখন শুধু পড়া যাবে, সেখানে নতুন করে কোনো পরিবর্তন বা আপডেট করা যাবে না। অন্যদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর এক্সক্যানসেল সেবা বন্ধ করে জানায়, চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেবাটি স্থগিত রাখতে হচ্ছে।
এনিটার এক্সের প্রকাশ্য পোস্ট সংগ্রহ করে বিজ্ঞাপন, ট্র্যাকিং কুকি ও জাভাস্ক্রিপ্ট বাদ দিয়ে দেখাত। ফলে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই তুলনামূলক পরিচ্ছন্নভাবে এক্সের পোস্ট পড়তে পারতেন ব্যবহারকারীরা।
তবে এক্সের জন্য এ ধরনের সেবা সমস্যার কারণ। এসব সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এক্সের পোস্ট দেখলেও বিজ্ঞাপন দেখেন না। ফলে ওই দর্শন থেকে এক্সের আয় করার সুযোগ থাকে না। এর আগে টুইটারও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপকে তাদের কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করেছিল।
এনিটার বন্ধ হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে এক্সের নতুন এপিআই বিধিনিষেধের পর এনিটারের প্রধান সেবা নিটার ডটনেট (Nitter.net) সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে এনিটার চালাতে চাইলে সেটিকে একটি বাস্তব এক্স অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজন হয়েছিল।
এনিটার ও এক্সক্যানসেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট ছাড়াই এক্সের পোস্ট দেখার বিকল্প সেবা ব্যবহারের সুযোগ আরও কমে গেল।