জাতিসংঘের প্রতিবেদন

বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারে উত্থান, সঙ্গে বাড়ছে নতুন ঝুঁকি

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৩

বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারে উত্থান, সঙ্গে বাড়ছে নতুন ঝুঁকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে দেশ ও মানুষের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি তৈরি করছে গুরুতর ঝুঁকিও। জাতিসংঘের স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্যানেলের প্রথম প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্বের ৪০ জন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ।

জুলাইয়ের ৬ থেকে ৭ তারিখ জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এআই গভর্ন্যান্স বিষয়ক প্রথম বৈশ্বিক সংলাপে প্রতিবেদনটি সরকারগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এটিকে এআই নিয়ে প্রথম বৈশ্বিক, স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী বছর আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই প্যানেল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সদস্যরা তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিনির্ধারণের জন্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ জরুরি হলেও প্রযুক্তির সক্ষমতা এত দ্রুত বাড়ছে যে তা বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে অত্যন্ত স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদ্ধতি এখনও সীমিত।

প্যানেলের সহসভাপতি ইয়োশুয়া বেঙ্গিও সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ বাড়ছে এবং প্রযুক্তির সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এটি নিজে থেকে বা অপব্যবহারের মাধ্যমে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের সম্ভাবনা বিশাল হলেও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রুত বিস্তারে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি, ধ্বংসাত্মক ব্যবহারের ঝুঁকি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়লেও তা সমানভাবে বিস্তৃত নয়। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ কথোপকথনভিত্তিক এআই ব্যবহার করছেন, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম।

এআই উন্নয়নও খুব সীমিত কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ এআই সুপারকম্পিউটারের কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের দখলে, যেখানে চীনের অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ।

বিশ্বে সাত হাজারের বেশি ভাষা থাকলেও বর্তমান এআই মডেলগুলো খুব অল্প সংখ্যক ভাষার ওপর প্রশিক্ষিত। ফলে অনেক ভাষার মেশিন অনুবাদে ভুল থেকে যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই মানবাধিকার, সামাজিক কাঠামো ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এআই দিয়ে তৈরি শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট এবং ডিপফেকভিত্তিক যৌন সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই বড় পরিসরে প্রভাবশালী কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে এবং জনআস্থা, সামাজিক সংহতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, উন্নত অর্থনীতির দেশসহ বেশিরভাগ দেশের কাছেই সর্বাধুনিক এআই মডেল মূল্যায়ন বা এর নীতিনির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই।

সূত্র : রয়টার্স

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন