২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষবিহীন অভিযান চালাবে দক্ষিণ কোরিয়া
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টরের বাইরে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে সাতটি উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তি প্রকল্প হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ অভিযান, ২০২৯ সালের মধ্যে ১০০-কিউবিট কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি বাণিজ্যিকভাবে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
আজ (বুধবার, ১২ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সভাপতিত্বে ব্লু হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘সেভেন মেজর সিড’ নামে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। পারমাণবিক শক্তি, ফিউশন শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ ও উড়োজাহাজ, উন্নত জীবপ্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উপকরণের সরবরাহব্যবস্থা এই সাত ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে নিজস্ব প্রযুক্তিতে চাঁদে অবতরণ অভিযান চালাবে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০৩২ সালে দ্বিতীয় চন্দ্রযান পাঠানোর পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ার লক্ষ্যও রয়েছে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে ২০২৯ সালের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ১০০-কিউবিট প্রসেসর তৈরির পরিকল্পনা করেছে দেশটি। ২০৩৫ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম চিপ উৎপাদনে বিশ্বনেতৃত্ব অর্জন করতে চায় তারা।
জ্বালানি খাতেও রয়েছে বড় লক্ষ্য। ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি বাণিজ্যিকভাবে চালু এবং ২০৩০-এর দশকে নতুন ধরনের পারমাণবিক চুল্লির নির্মাণ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০-এর দশকের শেষ দিকে ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জীবপ্রযুক্তিতে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তির পণ্য বাজারজাত করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।
দেশটির কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমার প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দুই দশকে উদীয়মান প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিয়ে নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করা।