‘শিক্ষকদের ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজার ও গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন নয়, শিক্ষকদের ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজার ও গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসি বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. শাজ্জাদ হোসেন।
১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভো থিয়েটার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্যানেল আলোচনায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
প্যানেল আলোচনার নলেজ পার্টনার ছিল বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।

ড. শাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন কারিকুলামের কারণে শিক্ষার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সের কারিকুলাম বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথই থাকে। মূল ঘাটতি তৈরি হয় শিক্ষকদের দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে।’
উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে যুক্ত থাকেন এবং সেই অভিজ্ঞতা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশেও যেসব শিক্ষক সরাসরি শিল্পখাতের প্রকল্পে যুক্ত আছেন, তাদের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি দক্ষ হয়ে গড়ে উঠছেন।
ড. শাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে পাঠানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর অন্যতম উপায় হলো পর্যাপ্ত গবেষণা অর্থায়ন। হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের মতো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা নিয়মিত রাখা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষকরা বিশ্বমানের গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন।’
শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত বর্ষের প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. শাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘শুধু তাত্ত্বিক কাজ বা শ্রেণিকক্ষের প্রদর্শনের বদলে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সামাজিক সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করা উচিত।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি নদী পরিষ্কারের জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরির কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের কাজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা তৈরি করে।
দেশের উচ্চশিক্ষার ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করেন উল্লেখ করে তিনি নীতিগত সংস্কারের আহ্বান জানান। তার মতে, বার্ষিক পরীক্ষার প্রচলন তুলে দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত।
এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কুইজ, মিডটার্ম ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পড়াশোনায় যুক্ত থাকতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষকসংকট কাটাতে মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্ট এবং অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।