বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬
‘প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গ্র্যাজুয়েটদের প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা’
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গ্র্যাজুয়েটদের প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের মানবসম্পদ পরিচালক দুরদানা কবীর।
গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভো থিয়েটার অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
প্যানেল আলোচনার নলেজ পার্টনার ছিল বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।
দুরদানা কবীর বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি কর্মসংস্থান উপযোগী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই শুরু হওয়া উচিত। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও দেশীয় ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম সব সময় তাল মেলাতে পারছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে প্রবেশের সময় একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের প্রত্যাশার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়।’

এই ব্যবধান কমাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। দুরদানা কবির বলেন, ‘ইউনিলিভার গত ১৬ বছর ধরে ‘বিজমাইস্ট্রোজ’ (BizMaestros) নামে একটি ফ্ল্যাগশিপ ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। এতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসার বিভিন্ন তথ্য, আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও বাজার পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা পাচ্ছে।’
দুই থেকে তিন মাস ধরে মাস্টার ক্লাস ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ ছাড়াও ‘স্পার্কস’ বা ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর এবং ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
দুরদানা কবীর বলেন, ‘বর্তমানের বিপণনব্যবস্থা আর আগের মতো শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক প্রথাগত মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুক এবং এআই-নির্ভর কনটেন্ট এখন এ ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের এসব আধুনিক ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ শেখানো প্রয়োজন।’
নতুন প্রজন্মের আচরণগত ও সফট স্কিলের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, বর্তমান শিক্ষার্থীদের ল্যাটারাল থিংকিং বা প্রচলিত ধারার বাইরে চিন্তার দক্ষতা ভালো হলেও তথ্য বিশ্লেষণ করে গভীরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা এবং ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ে ঘাটতি রয়েছে।
অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের কারণে জুনিয়র পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট ও সামাজিক দক্ষতায় দুর্বলতা দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন দুরদানা কবীর। এ ঘাটতি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।