বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬
‘প্রযুক্তির যুগে দক্ষ কর্মী হতে শুধু প্রশিক্ষণ নয় যোগ্যতাও জরুরি’
বাংলাদেশে প্রচলিত শর্ট কোর্স বা শুধু উপস্থিতির ভিত্তিতে সনদ দেওয়ার পরিবর্তে যোগ্যতানির্ভর বা কম্পিটেন্সি বেইজড সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী তৈরিতে জোর দিয়েছেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ)। প্রযুক্তির যুগে দক্ষ কর্মী হতে শুধু প্রশিক্ষণ নয় যোগ্যতাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভো থিয়েটার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্যানেল আলোচনায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
প্যানেল আলোচনার নলেজ পার্টনার ছিল বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।

ড. নাজনীন বলেন,‘২০১৮ সালে এনএসডিএ গঠিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর ধরে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রম শুরু করেছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রচলিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরির চেষ্টা হলেও এতে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এনএসডিএর ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের লেভেল ১ থেকে লেভেল ৬ পর্যন্ত কম্পিটেন্সি বেইজড অ্যাসেসমেন্ট বা যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন ছাড়া কাউকে আন্তর্জাতিক বা দেশীয় বাজারে দক্ষ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।’
এনএসডিএর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন,‘প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা ইচ্ছেমতো কারিকুলাম তৈরি করে না। ১৬টি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলে যুক্ত ব্যবসায়ী সংগঠন ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা এবং টাস্ক অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে চার দিনব্যাপী কর্মশালায় কারিকুলাম তৈরি করা হয়। পরে তা যাচাই-বাছাই বা ভ্যালিডেশনের পর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।’
ড. নাজনীন জানান, বর্তমানে এনএসডিএর ৩৫২টি ভ্যালিডেটেড কারিকুলাম রয়েছে। ৬৪ জেলায় ২ হাজার ২৭৫টি নিবন্ধিত স্কিল ট্রেনিং প্রোভাইডার বা দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সম্প্রতি ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, এনএসডিএর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ স্থানীয় বাজারে, ৮ শতাংশ বিশ্বের ৭২টি দেশে এবং ২৫ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।
উদীয়মান প্রযুক্তির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনএসডিএ ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স, ডেটা অ্যানালিটিকস, রোবোটিকস, আইওটি এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর লেভেল-৬ কারিকুলাম তৈরি করেছে। ১৩টি প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে ক্লাসও শুরু হয়েছে।
তবে কারিগরি ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব বলে উল্লেখ করেন ড. নাজনীন। এ সংকট দূর করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক তৈরি এবং প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে ‘বিশেষায়িত ট্রেইনার স্কুল’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল এবং ইংরেজি, চীনা, আরবি, কোরিয়ান, ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষায় যোগ্যতাভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।