পাবলিক ওয়াই-ফাইতে ভিপিএন কতটা সুরক্ষা দেয়
বর্তমান সময়ে বিমানবন্দর, ক্যাফে, হোটেলের মতো জায়গায় পাবলিক ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়। অনেকেই জানেন না, এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে আপনার অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করা যেতে পারে। নেটওয়ার্ক চালানো ব্যক্তি বা ইন্টারনেট প্রদানকারী উভয়ই ট্রাফিক দেখতে পারে। তবে, এই ঝুঁকি কমাতে ভিপিএন ব্যবহার করাও যেতে পারে। মনে রাখবেন, ভিপিএন ব্যবহার আপনাকে পুরোপুরি অদৃশ্য বা গোপন করে না বা সুরক্ষা দেয় না।
ভিপিএনের কাজ ও সীমাবদ্ধতা
ভিপিএন আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করে। এটি নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কেউকে আপনার কার্যক্রম দেখতে দেয় না। এছাড়াও, ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনি অন্য দেশের অবস্থান থেকে সংযোগ করা দেখাতে পারেন। তবে লগ-ইন করা ওয়েবসাইট, ব্যবহার করা অ্যাপ এবং ব্রাউজারের কুকি ও ট্র্যাকার এখনও আপনাকে চিহ্নিত করতে পারে। ভিপিএন সব ট্র্যাকিং থামায় না, কিন্তু পাবলিক ওয়াই-ফাইতে নিরাপত্তা বাড়ায়।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ভিপিএন
পাবলিক ওয়াই-ফাইতে ই-মেইল চেক, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা হালকা কাজের জন্য ভিপিএন যথেষ্ট। এটি বিজ্ঞাপনদাতা বা ট্র্যাকারদের জন্য আপনার কার্যক্রম ট্র্যাক করা কঠিন। মোবাইলেও এটি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেয়।
যখন ভিপিএন যথেষ্ট নয়
যদি আপনি সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট বা হোয়িসলব্লোয়ার হন, শুধুমাত্র ভিপিএন যথেষ্ট নয়। বড় কোম্পানি কুকি ও লগ-ইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করতে পারে। কিছু দেশে ভিপিএন ব্যবহার সীমিত। এ ক্ষেত্রে টর ব্রাউজার, ট্র্যাকার ব্লকার, বিকল্প ই-মেইল ও নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কিছু ভিপিএন যেমন নর্ডভিপিএন বা প্রোটন ভিপিএন টর-ওভার-ভিপিএন সার্ভার দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ায়।

ভিপিএন বেছে নেবের যে কারণে
পাবলিক ওয়াই-ফাইতে গোপনীয়তা রাখতে চাইলে নির্ভরযোগ্য ভিপিএন নির্বাচন করুন। স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং নো-লগ পলিসি থাকা জরুরি। কিল সুইচ ও ডিএনএস লিক প্রোটেকশন থাকা উচিত। স্বয়ংক্রিয় সংযোগ সুবিধা, শক্তিশালী মোবাইল অ্যাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা পেমেন্ট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ।
ভিপিএন পাবলিক ওয়াই-ফাইতে সংযোগ নিরাপদ রাখে। এটি ডেটা এনক্রিপ্ট করে, পরিচয় আংশিক লুকায় এবং অবস্থান পরিবর্তন দেখাতে সাহায্য করে। পুরোপুরি গোপনীয়তা বা অদৃশ্যতা দেয় না। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সহজ, কার্যকর এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা।
সূত্র : সিনেট