হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে ব্যবহারকারীদের যা জানা দরকার
হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তা ও কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকলেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কিছু ব্যক্তিগত ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। ফোন নম্বর, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও ইন্টারনেট সংযোগের মতো তথ্য সেবাটি পরিচালনায় কাজে লাগে। এ ছাড়া ফেসবুকের মতো মেটার অন্য সেবার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ যুক্ত করলে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য বিনিময় হতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ, নথি ও কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে। ফলে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মেটাও, এসব বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে বা কলের কথা শুনতে পারে না। তবে এই সুরক্ষার অর্থ এই নয় যে অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না।
যে তথ্য সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারী ফোন নম্বর দেন। পাশাপাশি নামের মতো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং সেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ। অন্য ব্যবহারকারীরাও কোনো ব্যক্তিকে নিজেদের যোগাযোগের তালিকায় যুক্ত করার মাধ্যমে তার সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপ কি মেটার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে
হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন সেবা। প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সেবার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু তথ্য বিনিময় হতে পারে। যেমন, ব্যবহারকারী চাইলে হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করতে পারেন।
তবে তথ্য সংগ্রহ বা সেবার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের অর্থ ব্যক্তিগত বার্তা বিক্রি করা নয়। প্রতিবেদনে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তা বিক্রির কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
যেভাবে নিজের গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখবেন
হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে ‘প্রাইভেসি’ বিভাগ থেকে কারা ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করা যায়। এ ছাড়া কারা গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বার্তা, চ্যাট লক ও অ্যাপ লকের মতো সুবিধা চালু করা যায়।
চ্যাটের ব্যাকআপও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এ জন্য ব্যাকআপের সেটিংস থেকে এনক্রিপশন চালু করে পাসওয়ার্ড বা ৬৪ অঙ্কের এনক্রিপশন কী ব্যবহার করা যায়। তবে পাসওয়ার্ড বা কী হারিয়ে গেলে ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপও এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবে না।