প্রযুক্তি খাতে কর্মীদের চাকরি বদলের স্বাধীনতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য
প্রযুক্তি খাতে কর্মীদের চাকরি বদলের সুযোগ বাড়াতে নন-কমপিট চুক্তি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। এসব চুক্তির কারণে গুগল ডিপমাইন্ডের কিছু কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ অক্টোবর ম্যানচেস্টারে এ পরিকল্পনার কথা জানান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। কর্মীদের দীর্ঘ নোটিশ পিরিয়ডও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এআইবিষয়ক মন্ত্রী কানিষ্ক নারায়ণ। তবে চুক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে, নাকি এর মেয়াদ ও প্রয়োগ সীমিত করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
গুগল ডিপমাইন্ডে সাধারণত নন-কমপিট চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস হলেও জ্যেষ্ঠ গবেষকদের ক্ষেত্রে তা ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে। এ সময়ে অনেক কর্মীকে বেতনসহ ছুটিতে থাকতে হয়, যা ‘গার্ডেন লিভ’ নামে পরিচিত। গুগলের দাবি, তাদের কর্মচুক্তি বাজারের প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নন-কমপিট শর্ত বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়।
এআই খাতে কর্মীদের চাকরি বদলের সুযোগ বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে। গত মাসে ইনহেরেন্ট ল্যাবসসহ ২০ জন উদ্যোক্তা নন-কমপিট চুক্তি ও দীর্ঘ নোটিশ পিরিয়ডের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ডিপমাইন্ডের কয়েকজন সাবেক গবেষক ইতোমধ্যে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। গবেষণা খাতের নিয়োগ বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান জেকি ডেটার হিসাবে, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলে গবেষক নিয়োগে ডিপমাইন্ডের অংশ ২০২২-২৩ সালের ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য অ্যানথ্রপিক।
তবে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের সংগঠন দ্য সিটি ইউকে নন-কমপিট চুক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির মতে, এসব চুক্তি গোপন তথ্য ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।