অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখার ৬ কৌশল
অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বাড়াতে গিয়ে অনেকেই বাড়তি মানসিক চাপে ভোগেন। ওয়েবসাইটের কুকি নীতি, অ্যাপের অনুমতি এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের ট্র্যাকিং এড়ানোর চেষ্টা দৈনন্দিন কাজকে জটিল করে তোলে। তবে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপে বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই অনলাইন গোপনীয়তা বাড়ানো সম্ভব।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসিম্যাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সেটিংস আগে থেকেই ঠিক করে রাখা এবং সম্ভব হলে সুরক্ষার কাজ স্বয়ংক্রিয় করা কার্যকর উপায়। এতে বারবার একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন কমে।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ৬ কৌশল
১. ট্র্যাকার ব্লকার ব্যবহার করুন
ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ অনুসরণকারী ট্র্যাকার ঠেকাতে ব্রাউজারে ট্র্যাকার ব্লকার ব্যবহার করা যায়। এতে বিজ্ঞাপনদাতাদের ব্রাউজিং-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ কমে। প্রাইভেসি ব্যাজার ও ডাকডাকগো প্রাইভেসি এসেনশিয়ালস এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. ক্রোমের বদলে বিকল্প ব্রাউজার ব্যবহার করুন
ব্রাউজিংয়ের গোপনীয়তা বাড়াতে ব্রেভ বা ডাকডাকগোর মতো ব্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোতে ট্র্যাকার প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে। তবে পরিবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় এক্সটেনশনগুলো নতুন ব্রাউজারে কাজ করে কি না, তা যাচাই করে নিন।
৩. অ্যাপের অনুমতি সীমিত করুন
সব অ্যাপের অবস্থান, যোগাযোগের তালিকা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন হয় না। তাই প্রতিটি অ্যাপের অনুমতি পর্যালোচনা করুন। যে তথ্য বা সুবিধা অ্যাপটির কাজে প্রয়োজন নেই, সেগুলোর অনুমতি বন্ধ রাখুন।
৪. অপ্রয়োজনীয় কুকি প্রত্যাখ্যান করুন
ওয়েবসাইটে কুকি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় কুকি ছাড়া অন্যগুলো প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এতে ওয়েবসাইটের মূল সুবিধা ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ট্র্যাকিং কমানো সম্ভব।
৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট গুছিয়ে নিন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন। অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন এবং প্রোফাইলের তথ্য দেখার সুযোগ সীমিত রাখুন। এতে ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত মানুষের হাতে পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
৬. স্প্যাম কল ও বার্তা ঠেকান
মোবাইল অপারেটরের স্প্যাম কল শনাক্ত ও ফিল্টার করার সুবিধা চালু রাখুন। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক কল বা বার্তার জবাব দেবেন না। প্রতারণামূলক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
সচেতন সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এলে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। তাই প্রতিটি বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তায় মনোযোগ দেওয়া উচিত।
পিসিম্যাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকা বাস্তবসম্মত নয়। নিজের প্রয়োজন ও ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কার্যকর উপায়।