মানুষকে নিয়ে এআইয়ের ১২ মডেলের অভিন্ন বিশ্লেষণ
মানুষ সত্য অনুসন্ধানের চেয়ে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি খোঁজা এবং অন্যের স্বীকৃতি পাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সম্প্রতি ১২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর চালানো এক পরীক্ষায় এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। মডেলগুলোর অধিকাংশই মনে করে, মানুষ নিজের বিশ্বাস যাচাই করার চেয়ে সেটিকে সমর্থন করতেই বেশি আগ্রহী।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টমস গাইডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর মডেলকমপেয়ার প্রকাশিত পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি, গ্রোক ও ডিপসিকসহ ১২টি এআই মডেলকে মানুষের সম্পর্কে সবচেয়ে বিতর্কিত মতামত জানাতে বলা হয়। প্রতিটি মডেলকে একই প্রশ্ন তিনবার করা হয়েছিল। ৩৫টি উত্তরের মধ্যে ২৯টিতে উঠে আসে একই ধারণা, সত্যের চেয়ে দলভুক্ত থাকা ও নিজের বিশ্বাসকে সমর্থন করাকে মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয়।

চ্যাটজিপিটির মতে, মানুষ অনেক সময় নিজের ভুলের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি দাঁড় করাতে বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গ্রোকের একটি উত্তরে বলা হয়, একা সঠিক হওয়ার চেয়ে সবাই মিলে ভুল হওয়াকে মানুষ বেশি স্বাচ্ছন্দ্যকর মনে করে। জেমিনি ও ডিপসিকের উত্তরেও নিজের বিশ্বাস যাচাইয়ের বদলে সেটিকে যৌক্তিক প্রমাণ করার প্রবণতার কথা উঠে আসে।
তবে ক্লডের একটি উত্তর ছিল ব্যতিক্রম। এতে বলা হয়, মানুষ নিজেদের ধারণার চেয়ে বেশি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হতে পারে এবং অপরিচিত মানুষের প্রতিও উদার আচরণ করতে পারে।
এআইয়ের তৈরি ছবিতে ভিন্ন পর্যবেক্ষণ
পরীক্ষায় ছয়টি ছবি তৈরির এআই মডেলকেও মানুষের সম্পর্কে বিতর্কিত মতামত তুলে ধরতে বলা হয়। তৈরি করা ১২টি ছবির মধ্যে ১০টিতে প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা ও পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি ফুটে ওঠে। ছবিগুলোতে মুঠোফোনে ব্যস্ত থেকে চারপাশের বিপদ উপেক্ষা করা এবং পৃথিবীর অবনতির মধ্যেও উদাসীন থাকার দৃশ্য দেখা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাষাভিত্তিক ও ছবি তৈরির এআই ভিন্ন ধরনের তথ্য থেকে শেখে। ফলে মানুষের আচরণ নিয়ে তাদের তৈরি সমালোচনাতেও পার্থক্য দেখা গেছে।
তবে এই পরীক্ষাকে মানুষের আচরণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন করা হয়েছে, উত্তরের বিভাগ গবেষকেরা নির্ধারণ করেছেন এবং নমুনাও সীমিত ছিল। এআই মডেলগুলোর উত্তর তাদের প্রশিক্ষণে শেখা ভাষা ও প্রচলিত ধারণার প্রতিফলন হতে পারে।