এআই দিয়ে ওডিসি বানিয়ে সমালোচনার মুখে ইলন মাস্কের গ্রোক
গ্রিক মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিওর প্রথম সাত মিনিট প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক। তিন মাস আগে পুরো দৈর্ঘ্যের ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল সিনেমা তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক। তবে এখন প্রকাশিত ভিডিওটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা না বলে ‘ওডিসি’ সিরিজের প্রথম পর্ব হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে গ্রোক।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রোকের এই ভিডিও তৈরি হয়েছে ওয়ান্ডার স্টুডিওস ও পরিচালক ডেভ ওয়াকারের সহযোগিতায়। ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি চরিত্র ও দৃশ্যের মাধ্যমে প্রাচীন গ্রিসের মহাকাব্যিক কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওডিসি’ সিনেমায় অশ্বেতাঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতাদের অভিনয়ের সমালোচনা করেছিলেন মাস্ক। নোলানের সিনেমাটি গত জুলাইয়ে মুক্তির পর বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ছয়টি দেশে শুটিং হওয়া সিনেমাটিতে কাজ করেছেন হাজারো অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী। বাস্তব সেট ও ব্যবহারিক চলচ্চিত্র নির্মাণ কৌশলের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন নোলান।
দৃশ্য আছে কিন্তু গল্পে টান কম
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদক অ্যান্থনি লিখেছেন, গ্রোকের ভিডিওটি তার প্রত্যাশার চেয়ে দৃশ্যত ভালো হলেও এতে শৈল্পিকতা, অনুপ্রেরণা ও মানবিক আবেগের ঘাটতি রয়েছে। কিছু দৃশ্যে বাস্তব অভিনেতাদের সমুদ্রে যাত্রার মতো অনুভূতি তৈরি হলেও পুরো ভিডিওতে গল্পের গতি ও চরিত্রগুলোর প্রতি দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয় না।
ভিডিওর শুরুতে বর্ণনাকারীর কণ্ঠে কাহিনির পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর একের পর এক দাড়িওয়ালা চরিত্রকে সংলাপ বলতে দেখা যায়। প্রতিবেদকের মতে, সংলাপগুলো কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক শোনায়। প্রাচীন গ্রিক ভাষার বদলে বর্ণনায় ব্রিটিশ উচ্চারণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফ্যান্টাসি ভিডিও গেম বা হলিউডের মহাকাব্যিক সিনেমার পরিচিত আবহ তৈরি করে।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আলাদা কিছু দৃশ্য বাস্তবের মতো মনে হলেও পুরো ভিডিওতে গল্পের স্বাভাবিক গতি ও আবেগের অভাব রয়েছে। নোলানের প্রায় তিন ঘণ্টার সিনেমা মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেও গ্রোকের ভিডিওর অর্ধেক শেষ হওয়ার আগেই কতটুকু বাকি আছে, তা দেখতে ইচ্ছা হচ্ছিল বলে লিখেছেন তিনি। ভিডিওটি কোনো ভিডিও গেমের দৃশ্য হলে এড়িয়ে যাওয়ার বোতাম চাপতেন বলেও মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদকের মতে, ভিডিওটির পরবর্তী সাত মিনিট দেখার আগ্রহও তৈরি হয়নি, পুরো দৈর্ঘ্যের সিনেমা দেখার কথা তো দূরের বিষয়। ফলে মহাকাব্য অবলম্বনে এআই দিয়ে সিনেমা তৈরির এই প্রচেষ্টা দৃশ্যগতভাবে কিছুটা বাস্তবসম্মত হলেও গল্প বলার ধরন ও মানবিক আবেগের জায়গায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।