মাইক্রোসফট কোপাইলটের নতুন নকশায় বদলে যাচ্ছে অফিসের কাজের ধরন

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৭

মাইক্রোসফট কোপাইলটের নতুন নকশায় বদলে যাচ্ছে অফিসের কাজের ধরন

কাজের বিভিন্ন ধাপ নিজে থেকে সম্পন্ন করতে কোপাইলটকে আরও সক্ষম করে তুলছে মাইক্রোসফট। নতুন নকশায় কোপাইলট অ্যাপে ‘হোম’, ‘কোড’ ও ‘অটোপাইলট’ নামে আলাদা বিভাগ থাকবে। পাশাপাশি ‘টুডে’ সুবিধার মাধ্যমে দিনের কাজের তালিকা তৈরি করার পাশাপাশি কিছু কাজ নিজে থেকেই এগিয়ে নিতে পারবে কোপাইলট।

পিসিওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নকশায় কোপাইলটকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা তথ্য খোঁজার এআই হিসেবে নয়, বরং কাজ সম্পন্ন করার সহকারী হিসেবে গড়ে তুলছে মাইক্রোসফট। অক্টোবর থেকে কোপাইলট অ্যাপের নতুন নকশা ধীরে ধীরে চালু হবে। একই সময়ে ‘টুডে’ সুবিধার ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক সংস্করণও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাজ নিজেই এগিয়ে নেবে কোপাইলট

‘টুডে’ সুবিধাটি ব্যবহারকারীর দিনের কাজ ও বৈঠকের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় কাজের তালিকা তৈরি করবে। শুধু কাজের তালিকা দেখানো নয়, কোপাইলট প্রয়োজন অনুযায়ী ই-মেইলের খসড়া তৈরি, সময়সূচিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং ভুলে যাওয়া কাজের কথা মনে করিয়ে দিতে পারবে।

মাইক্রোসফটের কোপাইলট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকব আন্দ্রেউ বলেন, ‘টুডে’ শুধু কাজ দেখাবে না, কাজ এগিয়েও নেবে। এই সুবিধা আউটলুক ও টিমসের পাশাপাশি নতুন নকশার কোপাইলটের ‘হোম’ বিভাগেও থাকবে।

কোপাইলটেই মাইক্রোসফট ৩৬৫

কোপাইলটের মাধ্যমে মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে কাজ করার সুবিধাও আসছে। ব্যবহারকারী কোপাইলটকে নির্দেশ দিয়ে স্প্রেডশিট তৈরি করতে বললে সেটি এক্সেল খুলে প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে পারবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে পরীক্ষামূলক গ্রাহকদের জন্য এই সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজের প্রয়োজনের অ্যাপ তৈরি করবে কোপাইলট

কোপাইলটের ‘কোড’ বিভাগে ব্যবহারকারীরা নিজেদের কাজের জন্য ট্র্যাকার, ড্যাশবোর্ড, স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা বা পূর্ণাঙ্গ অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। এসব অ্যাপ অনলাইনেই চালানোর ব্যবস্থাও থাকবে।

মাইক্রোসফটের মতে, ভবিষ্যতে কাজের মৌলিক উপকরণ শুধু নথি, স্প্রেডশিট বা প্রেজেন্টেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহারকারীরা নিজেরাই ছোট সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবেন।

একাধিক কাজ সামলাবে অটোপাইলট

‘অটোপাইলট’ হবে কোপাইলটের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট। ব্যবহারকারীরা এসব এজেন্টের নাম ও কাজ নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। প্রতিটি অটোপাইলটের নিজস্ব স্মৃতি, অনুমতি, কম্পিউটিং ক্ষমতা ও কাজের পরিবেশ থাকবে।

অটোপাইলট কোনো একটি অ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাইক্রোসফট টিমস, আউটলুকসহ বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে কাজ করতে পারবে। মাইক্রোসফটের ধারণা, ভবিষ্যতে একটি প্রতিষ্ঠানের ভার্চুয়াল কর্মপরিবেশে শত শত অটোপাইলট একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তবে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কারণ ব্যবহারকারীর হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা এসব এজেন্ট ভুল সিদ্ধান্ত নিলে বা নির্ধারিত সীমার বাইরে কাজ করলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কোপাইলট ব্যবহারে বাড়তি খরচ

নতুন সুবিধাগুলোর খরচের কাঠামো এখনো পুরোপুরি জানায়নি মাইক্রোসফট। কোপাইলটের ‘হোম’ বিভাগের সাধারণ চ্যাট সুবিধাগুলো মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো সাবস্ক্রিপশনের আওতায় থাকবে।

তবে ‘কোড’, ‘অটোপাইলট’ এবং অ্যাস্ট্রা ও ফেবল নামের মডেল ব্যবহারে ব্যবহারভিত্তিক বিলিং চালু করা হবে। অর্থাৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে আলাদা খরচ হতে পারে। তবে কোন ব্যবহারের জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা এখনো জানায়নি মাইক্রোসফট।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন