সন্দেহজনক নম্বর লিংক ও বার্তা যাচাই করবে ট্রুকলারের নতুন সেবা
ফোন নম্বর শনাক্তকরণের পাশাপাশি এবার ওয়েবসাইটে সন্দেহজনক নম্বর, লিংক ও বার্তা যাচাইয়ের সুবিধা চালু করেছে ট্রুকলার। ‘স্ক্যাম চেকার’ নামের নতুন এই সেবায় কোনো অ্যাপ ইনস্টল বা অ্যাকাউন্টে সাইন ইন না করেই প্রতারণামূলক তথ্য শনাক্ত করা যাবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনের প্রতিষ্ঠান ট্রুকলারের নতুন সেবাটি রোববার চালু হয়েছে। শুরুতে শুধু ভারতে এটি ব্যবহার করা যাবে। পরে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সেবাটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্ক্যাম চেকারে সন্দেহজনক ফোন নম্বর বা লিংক লিখে দিলে সেটি ট্রুকলারের নিজস্ব ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রতারণা-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। সংক্ষিপ্ত লিংক থাকলে সেটি খুলে শেষ গন্তব্যের ঠিকানাও পরীক্ষা করবে সেবা। এরপর সেটি প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তথ্য দেখানো হবে।
সন্দেহজনক কোনো বার্তাও স্ক্যাম চেকারে দেওয়া যাবে। সেবাটি ওই বার্তা থেকে থাকা ফোন নম্বর বা লিংক শনাক্ত করে ট্রুকলারের ব্যবহারকারীদের তৈরি ‘স্ক্যামফিড’ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ বা প্রতিবেদন দেখাবে। তবে কোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নামের মতো বিস্তারিত তথ্য পেতে হলে ট্রুকলারের প্রচলিত সেবায় সাইন ইন করতে হবে।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ কাজে লাগাবে ট্রুকলার
স্ক্যামফিডে ট্রুকলারের ব্যবহারকারীরা প্রতারণার ঘটনা জানাতে ও সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ভারতে স্ক্যামফিডে প্রায় ২০ হাজার প্রতারণার প্রতিবেদন সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নতুন প্রতিবেদন যুক্ত হচ্ছে।
ট্রুকলার জানিয়েছে, ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা বিশ্বজুড়ে ১২৯০ কোটি বার্তা বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৩ লাখ বার্তাকে প্রতারণামূলক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিশিত ঝুনঝুনওয়ালা টেকক্রাঞ্চকে বলেন, ‘সন্দেহজনক লিংক বা ফোন নম্বর যাচাই করতে মানুষ সাধারণত ওয়েবে সার্চ করেন। ট্রুকলারের হিসাবে, প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ওয়েব সার্চে সন্দেহজনক লিংক ও ফোন নম্বর যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এই প্রবণতা থেকেই স্ক্যাম চেকার তৈরির ধারণা এসেছে।’
বর্তমানে প্রতারণার ঘটনা শুধু ফোন কলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বার্তা, মেসেজিং অ্যাপ ও ওয়েব লিংকের মাধ্যমেও প্রতারণা বাড়ছে। ২০২৫ সালের জিএসএমএ পরিচালিত ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের এক জরিপে প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা জানানো ব্যক্তিদের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, তারা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এসএমএসের মাধ্যমে ৩৭ শতাংশ এবং ফোন কলের মাধ্যমে ৩২ শতাংশ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভবিষ্যতে স্ক্যাম চেকারে আরও ধরনের প্রতারণা শনাক্ত করার পাশাপাশি স্ক্রিনশট আপলোড করে তা বিশ্লেষণের সুবিধাও যুক্ত করতে চায় ট্রুকলার।