এআইয়ের যে ১০ ব্যবহার আপনাকে ফেলতে পারে বিপদে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট দৈনন্দিন নানা কাজে সহায়ক হলেও সব ধরনের তথ্য ও কাজের জন্য এর ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। ব্যক্তিগত গোপন তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে চাকরি খোঁজা, পড়াশোনা, কেনাকাটা এবং চিকিৎসা, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নেওয়া পর্যন্ত কিছু কাজে চ্যাটবট ব্যবহার করলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসিম্যাগের প্রতিবেদনে এমন ১০টি কাজের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গোপন তথ্য জানানো
চ্যাটবটকে ব্যক্তিগত বা আইনি বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য জানানো ঝুঁকিপূর্ণ। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, কোনো মামলার সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য প্রাসঙ্গিক হলে প্রতিষ্ঠানকে তা আদালতে দিতে হতে পারে। তাই বেআইনি কর্মকাণ্ড বা অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে চ্যাটবটে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এআই এজেন্টকে বেআইনি কাজ করানো
এআই এজেন্ট ব্যবহার করে কোনো বেআইনি কাজ করা উচিত নয়। কারণ এজেন্টের কর্মকাণ্ডের দায় ব্যবহারকারীর ওপর পড়তে পারে। এমনকি বিনামূল্যে সিনেমা পাওয়ার মতো আপাতদৃষ্টিতে ছোট কাজেও আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং এজেন্টের কার্যক্রম নজরদারি ও সংরক্ষণ করা হতে পারে।
এআই দিয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই না করা
গুগলের এআইভিত্তিক সারাংশ বা চ্যাটবট অনেক সময় ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে জটিল বিষয়ে শুধু এআইয়ের উত্তরের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
এআই দিয়ে পুরো ই-মেইল লেখা
চ্যাটবট দিয়ে পুরো ই-মেইল লিখলে ভাষা ও ভঙ্গিতে কৃত্রিমতার ছাপ থাকতে পারে। এতে প্রাপকের কাছে যোগাযোগটি ব্যক্তিগত ও আন্তরিক না-ও মনে হতে পারে। পাশাপাশি ই-মেইলে এআইকে প্রবেশাধিকার দেওয়ায় গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
চাকরি খোঁজার পুরো দায়িত্ব এআইকে দেওয়া
চ্যাটবট চাকরি খোঁজার প্রাথমিক কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইটের সব বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির দক্ষতার সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে এমন চাকরি খুঁজে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই চাকরি খুঁজতে সরাসরি নির্ভরযোগ্য চাকরির ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই ভালো।
জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্র পুরোপুরি এআই দিয়ে লেখা
চ্যাটবট দিয়ে জীবনবৃত্তান্ত বা চাকরির আবেদনপত্র তৈরি করলে তা অনেক সময় কাঠখোট্টা ও সাধারণ হয়ে যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তার কাছে প্রার্থীর নিজস্ব দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে তুলে ধরা নাও হতে পারে। এআইকে বিন্যাস, পরিকল্পনা ও ভাষা ঠিক করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে পুরো লেখা তার ওপর ছেড়ে না দেওয়াই ভালো।

পড়াশোনার কাজ এআইকে দিয়ে করানো
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্তে আরও সক্রিয় হচ্ছে। ফলে নিজের কাজ করেও শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন। গণিত ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও চ্যাটবট ভুল করতে পারে। তাই পড়াশোনায় এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও পুরো কাজ তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
কেনাকাটায় এআইয়ের পরামর্শ অন্ধভাবে মানা
চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো এআই সেবার কেনাকাটার পরামর্শ সব সময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে। কোনো পণ্যের সুপারিশ কোথা থেকে এসেছে, সেটিও সব সময় স্পষ্ট নয়। তাই পণ্য কেনার আগে অভিজ্ঞ পর্যালোচকদের তৈরি পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা উচিত।
তর্কে নিজের পক্ষ সমর্থনের জন্য এআই ব্যবহার
নিজের মতামতের পক্ষে যুক্তি খুঁজতে চ্যাটবট ব্যবহার করলে এটি অনেক সময় ব্যবহারকারীর বক্তব্যকেই সমর্থন করতে পারে। এতে ভুল ধারণা আরও দৃঢ় হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রেও চ্যাটবটের মতামতকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসা আইনি ও আর্থিক পরামর্শ নেওয়া
চিকিৎসা, আইনি বা আর্থিক সিদ্ধান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল উত্তর ব্যক্তির স্বাস্থ্য, অর্থ বা আইনি অবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক, আইনজীবী, হিসাবরক্ষক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটবটকে সাধারণ কাজে শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পেশাদারদের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।