হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ইউজারনেম ফিচার নিয়ে আপত্তি জানাল ভারত সরকার
মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ভারত। নতুন ইউজারনেম ফিচার চালু নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হোয়াটসঅ্যাপকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার, পাশাপাশি আপাতত এই ফিচারের রোলআউট স্থগিত রাখতেও বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি ধাপে ধাপে বৈশ্বিকভাবে ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে ভারতের সরকার আশঙ্কা করছে, এই সুবিধা অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং ও ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সরকারের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে ফিচারটি চালু করা যাবে না। চিঠিতে হোয়াটসঅ্যাপকে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের গোপনীয়তা ইস্যুতে টেলিগ্রাম নিয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছিল ভারত।
ভারত হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। ফলে এই সিদ্ধান্ত প্ল্যাটফর্মটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে সরকারি নিয়ম মেনে চলা, অন্যদিকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে কোম্পানিটিকে।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ইউজারনেম ফিচারটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি এবং ধীরে ধীরে এটি উন্মুক্ত করা হবে। ব্যবহারকারীদের নিবন্ধনের জন্য এখনো ফোন নম্বর প্রয়োজন হবে এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তার নির্দিষ্ট ইউজারনেম জানা থাকতে হবে।
প্রতারণা ঠেকাতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে যোগাযোগের সীমা নির্ধারণ এবং বারবার ইউজারনেম অনুমান করার চেষ্টা ব্লক করার মতো ব্যবস্থা।
তবে সরকারের আশঙ্কা, নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ দিলে অপরাধীরা সহজেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে। একই ধরনের উদ্বেগ আগে টেলিগ্রাম নিয়েও প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে নম্বর গোপন রাখার ফিচার ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
এদিকে, ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নির্দেশনার সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তাদের মতে, কোনো ফিচার চালুর আগেই তা বন্ধ বা অনুমোদনের ক্ষমতা সরকারের নেই, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।