এআই থাকলে কেমন হতো ইতিহাস, গুগলের বিজ্ঞাপনে নতুন কল্পনা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০ বছর পর ইতিহাসকে নতুনভাবে কল্পনা করেছে গুগল। এক নতুন বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়েছে, যদি ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের হাতে আধুনিক গুগল ওয়ার্কস্পেস ও এআই টুল থাকত, তাহলে কেমনভাবে তৈরি হতো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা।
‘গ্রুপ প্রজেক্ট, তবে ১৭৭৬-এর ছোঁয়া’ স্লোগানে তৈরি বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, থমাস জেফারসন খসড়া লিখছেন, আর বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের বার্তা থেকেই শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতা। গুগল ডক্স সম্পাদনা, গুগল ক্যালেন্ডারে মিটিং নির্ধারণ, গুগল মিটে দূরবর্তী আলোচনা এবং শেষে ই-সিগনেচারের মাধ্যমে দলিল চূড়ান্ত করার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনে এআইয়ের উপস্থিতিও রয়েছে সূক্ষ্মভাবে। জাতীয় সিলের জন্য বিভিন্ন প্রতীক কল্পনায় আনতে ‘হেল্প মি ভিজ্যুয়ালাইজ’ টুল ব্যবহার করা হয়, জেমিনি মিটিংয়ের নোট নেয়, এমনকি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় জর্জের ডকুমেন্ট অ্যাকসেস অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের আগে চ্যাটবটের পরামর্শ নেওয়ার দৃশ্যও রয়েছে।
পুরো বিজ্ঞাপনটি হালকা রসিকতায় ভরপুর। এক পর্যায়ে স্যাম অ্যাডামসকে বলতে শোনা যায়, ‘বিয়ার খেতে খেতে কি বিষয়টা মেটানো যায় না?’ তবে অন্যান্য প্রযুক্তি বিজ্ঞাপনের তুলনায় এখানে এআই ব্যবহারের প্রচারণা তুলনামূলক সংযত রাখা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া এসেছে মিশ্র। ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ইতিবাচক মন্তব্য বেশি দেখা গেলেও, ব্লুস্কাইয়ে সমালোচনা তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ বিজ্ঞাপনটিকে অস্বস্তিকর ও বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন। ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস জনস্টনের মতে, এমন কল্পনাতেও এআইকে রাজনৈতিক সংগঠন, লেখালেখি বা মানবিক সহযোগিতার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা কঠিন।