এআইয়ের যুগে বাড়ছে পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখার চ্যালেঞ্জ
এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় গুগলের এআই মডেল জেমিনি তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এর একটি ক্ষেত্রে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের পাসওয়ার্ড অনুমান করেই সিস্টেমে ঢোকে মডেলটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পাসওয়ার্ড অনুমান করা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এআই মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য পাসওয়ার্ড যাচাই করতে পারে। অন্য দুটি ঘটনায় জেমিনি উন্মুক্ত অনলাইন সংগ্রহস্থলে থাকা পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত তথ্য কাজে লাগিয়েছিল।
ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি নথি পর্যন্ত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড এখনো গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ‘password’ বা ‘123456’-এর মতো সহজ পাসওয়ার্ড বেশি ব্যবহৃত হলেও পরে দুই স্তরের যাচাইকরণ, একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, আঙুলের ছাপ ও মুখ শনাক্তকরণের মতো ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে।
পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ধরনও ধীরে ধীরে বদলেছে। আগে মানুষ যা জানে, অর্থাৎ পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভরতা ছিল। পরে মানুষ যা, অর্থাৎ বায়োমেট্রিক পরিচয়ের ব্যবহার বেড়েছে। এখন পাসকি ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে নিরাপদ থাকতে এখনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার, একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করা, দুই স্তরের যাচাইকরণ চালু রাখা, পাসকি ব্যবহার এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেমিনির পাশাপাশি মেটা, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের এআই ব্যবস্থার সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনাগুলোও দেখিয়েছে, ছোট কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা এআইয়ের মাধ্যমে বড় পরিসরে কাজে লাগানো হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই এআইয়ের যুগেও সহজে অনুমান করা যায় না এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।