সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:১৯

সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের মতামত ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল (৪ নভেম্বর) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত সংবাদের কারণে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যও হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খসড়ায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব আলোচনায় আসে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।

এ ছাড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা বন্ধ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং বন্ধ করা কনটেন্ট পুনরায় চালুর আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও এসেছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো, সেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই আইনটি প্রণয়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত বিবেচনায় নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন