মেমোরি সংকটে নতুন কৌশলে ছোট ফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতারা

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৪

মেমোরি সংকটে  নতুন কৌশলে ছোট ফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতারা

মেমোরির দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ছোট ফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতারা পণ্যের নকশা বদলাচ্ছে, নকল চিপ শনাক্তে পরীক্ষা বাড়াচ্ছে এবং বাড়তি খরচ গ্রাহকের ওপর চাপাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের মতে, সংকটটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। এখন মূল সমস্যা দাম নয়, প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ মেরামতযোগ্য ফোন নির্মাতা ফেয়ারফোন, ফিনল্যান্ডের ফোন নির্মাতা জোল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেরামতযোগ্য ল্যাপটপ নির্মাতা ফ্রেমওয়ার্ক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফেয়ারফোনের প্রধান নির্বাহী রেমন্ড ভ্যান এক বলেন,‘পর্যাপ্ত সরবরাহ বরাদ্দ না থাকলে ব্যবসা চালানো কঠিন।’

মেমোরি নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের প্রধান নির্বাহী জুলাইয়ে বলেছিলেন, সরবরাহের দিক থেকে ২০২৭ সাল শিল্পটির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বছর হতে পারে। ২০৩০ সালের পরও মেমোরির চাহিদা উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে বেশি থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেমোরির বাড়তি দামের কারণে কম দামের স্মার্টফোন তৈরি অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ায় এ বছর বিশ্বে স্মার্টফোন সরবরাহ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০৮ কোটি ইউনিট হতে পারে। এটি বার্ষিক হিসাবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে।

দাম বাড়ার গতি কমলেও সংকট কাটেনি

বাজার গবেষণা ও প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে প্রচলিত ডিআরএএম মেমোরির চুক্তিভিত্তিক দাম ১৩ থেকে ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৯৩ থেকে ৯৮ শতাংশ।

ফিনল্যান্ডের ফোন নির্মাতা জোল্লার প্রধান নির্বাহী সামি পিয়েনিমাকি জানান, মার্চের শেষে ফোনের স্টোরেজ ও ডিআরএএমের সমন্বিত প্যাকেজের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তার মতে, মেমোরির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ফ্রেমওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী নিরাভ প্যাটেল বলেন, গত বছরের শেষ দিকে চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান স্পষ্ট হয়। এরপর নির্মাতারা দ্রুত যত বেশি সম্ভব মেমোরি চিপ ও মজুত সংগ্রহের চেষ্টা করায় সংকট আরও গভীর হয়।

পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ফ্রেমওয়ার্ক বড় মজুত তৈরি করতে পারছে না। তাই প্রতিষ্ঠানটি আগেভাগেই এমন অর্ডার দিচ্ছে, যা বাতিল করা যাবে না। অর্ডারের সময় চূড়ান্ত দাম, সরবরাহের সময় ও পরিমাণ নিশ্চিত না থাকলেও এভাবে সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা করছে তারা।

সংকট মাথায় রেখে বদলাচ্ছে পণ্যের নকশা

জোল্লা দুটি ধরনের মাদারবোর্ড তৈরি করেছে, যাতে প্রয়োজনে সমন্বিত মেমোরি প্যাকেজের বদলে আলাদা চিপ ব্যবহার করা যায়। ফ্রেমওয়ার্ক শুরু থেকেই মডুলার মেমোরি ব্যবহার করছে। ফলে পুরোনো কম্পিউটার থেকে খুলে নেওয়া মেমোরিও নতুন যন্ত্রে ব্যবহার করা যায়।

জোল্লা প্রতিটি সরবরাহ চালানের নমুনা পরীক্ষা করে চিপগুলো নতুন কি না নিশ্চিত করছে। এর মাধ্যমে নতুন চিপ হিসেবে বিক্রি করা সংস্কার করা বা পুরোনো চিপ শনাক্তের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেয়ারফোনের ভ্যান একের মতে, প্রায় ৪০০ ডলার দামের স্মার্টফোনে মেমোরি যন্ত্রাংশের মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাড়তি খরচ সামলাতে ফ্রেমওয়ার্ক দ্রুত পণ্যের দাম সমন্বয় করছে, জোল্লা মেমোরি আপগ্রেডের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে। তবে ফেয়ারফোন এখনো তাদের ফোনের দাম বাড়ায়নি।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন