অ্যাপের তথ্য ব্যবহার নিয়ে অ্যাপলকে সতর্ক করেছে জার্মানি
তৃতীয় পক্ষের অ্যাপকে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক নকশা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে অ্যাপলের বিরুদ্ধে। তথ্য ব্যবহারের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অ্যাপলকে নির্দেশ দিয়েছে জার্মানির ফেডারেল কার্টেল অফিস।
জার্মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, অ্যাপলের ‘অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি’ সুবিধায় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপকে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করা হয়। বিপরীতে, অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপের ক্ষেত্রে সম্মতি দিতে উৎসাহিত করা হয়।
জার্মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দুই ধরনের সম্মতি চাওয়ার পপ-আপে প্রতীক, ভাষা ও তথ্য উপস্থাপনে পার্থক্য রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক হাতের প্রতীকসহ এমন উপাদান রাখা হয়েছে, যা সম্মতি না দেওয়ার দিকে ব্যবহারকারীকে প্রভাবিত করতে পারে।
দ্য ভার্জ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অ্যাপ ট্র্যাকিং’ ও ‘ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন’ নিয়ে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও রয়েছে অস্পষ্ট বর্ণনা। সম্মতির সুবিধা ব্যাখ্যায় ভিন্ন পরিমাণ জায়গা এবং বিকল্প দেখানোর ক্রমও ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন নিয়মে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চাওয়ার পপ-আপ থেকে নিরুৎসাহিত করার ভাষা ও প্রতীক সরাতে হবে। নকশাটিও অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপের পপ-আপের মতো নিরপেক্ষ করতে হবে।
২০২১ সালে আইওএস ১৪.৫ সংস্করণে ‘অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি’ চালুর পর থেকেই সুবিধাটি প্রযুক্তি খাতে আলোচিত। এটি চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল বাজার আইন অনুযায়ী অ্যাপল ‘গেটকিপার’ হিসেবে বাড়তি নজরদারির আওতায় রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারে অ্যাপলের নিজস্ব সেবা ও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ সমান সুযোগ পাচ্ছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপে তদন্ত চলছে।