এসডি কার্ড নষ্ট হওয়া ঠেকাতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ক্যামেরা, ড্যাশক্যাম ও সিকিউরিটি ক্যামেরায় নিয়মিত ব্যবহারের কারণে এসডি কার্ড দ্রুত নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ভুলভাবে কার্ড খুলে ফেললেও তথ্য সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে এসডি কার্ডের দামও বেড়েছে, তাই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে এর আয়ু বাড়ানো সম্ভব।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসিওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডি কার্ড নষ্ট হওয়ার পেছনে মূলত মেমোরির ক্ষয়, শারীরিক ক্ষতি, উৎপাদন ত্রুটি, ভুলভাবে কার্ড বিচ্ছিন্ন করা এবং তথ্য সংরক্ষণের কাঠামোর সমস্যা দায়ী।
বারবার তথ্য লেখা ও মুছে ফেললে ক্ষয় হয়
প্রায় সব এসডি কার্ডেই ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। এতে বারবার তথ্য লেখা ও মুছে ফেলার কারণে মেমোরি সেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়। ড্যাশক্যাম ও সিকিউরিটি ক্যামেরায় দীর্ঘ সময় ভিডিও ধারণের মতো কাজে এই ক্ষয় দ্রুত হতে পারে।
কম দামের কার্ডে ব্যবহৃত কিউএলসি ফ্ল্যাশ মেমোরির স্থায়িত্ব সাধারণত টিএলসি, এমএলসি বা এসএলসির তুলনায় কম। কার্ডের ধারণক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি পূর্ণ না রাখা এবং নিয়মিত পুনর্বিন্যাস করলে অপ্রয়োজনীয় ক্ষয় কমানো যায়।
অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা এড়িয়ে চলুন
গরমের সময় গাড়ির ড্যাশক্যামে দীর্ঘক্ষণ বেশি তাপমাত্রায় থাকলে এসডি কার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পানির সংস্পর্শে এলে কার্ডের সংযোগস্থলে ক্ষয় ধরতে পারে। আবার ঠান্ডা জায়গা থেকে হঠাৎ উষ্ণ পরিবেশে নিলে ঘনীভূত জলীয়বাষ্পও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই কার্ড শুকনো ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিবেশে রাখা এবং ব্যবহারের সময় সংরক্ষণ বাক্স ব্যবহার করা ভালো।
ভালো ব্র্যান্ড হলেও নষ্ট হতে পারে
ভালো ব্র্যান্ডের কার্ড ব্যবহার করলেও হঠাৎ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কার্ডের নিয়ন্ত্রণকারী অংশ, সোল্ডার সংযোগ বা ফ্ল্যাশ মেমোরির ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে।
কার্ড কেনার পর পুরো মেমোরিতে তথ্য লিখে ও পড়ে পরীক্ষা করার জন্য বিনা মূল্যের ‘এইচটু টেস্ট ডব্লিউ’ সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কার্ডে ত্রুটি বা তথ্য লেখার সমস্যা আছে কি না তা যাচাই করা যায়।
তথ্য লেখার সময় কার্ড খুলবেন না
তথ্য লেখার সময় কার্ড খুলে ফেললে বা ক্যামেরা, কম্পিউটার কিংবা অন্য যন্ত্রের বিদ্যুৎ চলে গেলে তথ্যের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তথ্য লেখা শেষ হওয়ার আগে কার্ড খুলে না ফেলে নিরাপদভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ কার্ড রিডারও বদলে ফেলা উচিত। একই সঙ্গে ক্যামেরা বা অন্য যন্ত্রে তথ্য লেখার সময় ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
যে যন্ত্রে ব্যবহার করবেন সেখানেই পুনর্বিন্যাস করুন
ফাইল ব্যবস্থাপনার ত্রুটিতেও কার্ডে থাকা তথ্য নষ্ট বা অপ্রবেশযোগ্য হয়ে যেতে পারে। তাই যে যন্ত্রে কার্ডটি মূলত ব্যবহার করা হবে, সম্ভব হলে সেই যন্ত্রেই কার্ড পুনর্বিন্যাস করা ভালো।
একাধিক যন্ত্রে ব্যবহার করলে সব যন্ত্রে সমর্থিত ফাইল ব্যবস্থা নির্বাচন করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অন্যত্র অনুলিপি রাখলে কার্ড হঠাৎ নষ্ট হলেও তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমে।