বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ শূন্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৯

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ শূন্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আন্তঃব্যাংক চার্জ নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমার লেনদেনে মার্চেন্ট ও কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান এবং মার্চেন্টের পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এ বাবদ কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে পৃথক সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেশের সব ব্যাংক, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরকে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১ জুলাই বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অতিরিক্ত চার্জের কারণে বাজারের লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এবং অংশীজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই দিনে জারি করা আরেক সার্কুলারে বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনে মার্চেন্টদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্টে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে ১ টাকা হারে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। অন্যদিকে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান মাসিক ভিত্তিতে লেনদেনের পরিমাণের ০.২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে ২ টাকা হারে প্রণোদনা পাবে।

নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বাংলা কিউআরের সব লেনদেনে কার্যকর হবে।

এর ফলে কোনো গ্রাহক দোকানে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে ১,০০০ টাকা পরিশোধ করলে ওই লেনদেনের জন্য গ্রাহকের ব্যাংক এবং মার্চেন্টের ব্যাংক চার্জ বাবদ কোনো অর্থ কেটে নিতে পারবে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো লেনদেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যাবে না। এ ছাড়া ব্যর্থ, বাতিল, রিভার্স, রিফান্ড, চার্জব্যাক বা বিতর্কিত লেনদেনের বিপরীতেও কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

কোনো মার্চেন্টের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা, ক্যাশ আউট কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট লেনদেন, মার্চেন্ট, নিষ্পত্তি এবং প্রণোদনার রেকর্ড যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভুল বা অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়া হলে তা ফেরত নেওয়া হবে অথবা পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মার্চেন্ট পেমেন্টকে আরও সহজ করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করা এবং নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টার-অপারেবল) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন