ব্যক্তিগত কাজে এআই এজেন্টের নতুন মডেল এনেছে মেটা
ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট চালানোর জন্য ‘মিউজ গ্লিমার’ নামে নতুন মডেল উন্মুক্ত করেছে মেটা। এই মডেলটি ব্যক্তিগত কাজ পরিচালনায় এআই ব্যবহারের সুযোগ দেবে।
অ্যাপাচি ২.০ লাইসেন্সের আওতায় গ্লিমারের মডেল উন্মুক্ত করেছে মেটা। ফলে ডেভেলপাররা এটি নিজেদের কম্পিউটারে নামিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।
একটি সাধারণ গ্রাফিকস প্রসেসরযুক্ত ম্যাক বা পিসিতেই গ্লিমার চালানো যাবে। এটি একাধিক ধাপে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারে।
কোড লেখা ও ত্রুটি সংশোধন, বিভিন্ন টুল ব্যবহার, ফাইল ও স্ক্রিনশট নিয়ে কাজ এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজ সম্পন্ন করার মতো সক্ষমতা রয়েছে মডেলটির। লেখা ও ছবি নিয়েও কাজ করতে পারে গ্লিমার। ১০০টির বেশি ভাষার তথ্য দিয়ে এটি প্রশিক্ষিত হয়েছে।
সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, বার্তার খসড়া তৈরি ও ফাইল গোছানোর মতো ব্যক্তিগত কাজেও গ্লিমার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মেটা। মডেলটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ক্লাউডে পাঠানোর প্রয়োজন কমবে।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কাজ করার উপযোগী করে গ্লিমার তৈরি করা হয়েছে। মেটার পরিকল্পনায় এটি সব সময় চালু থাকবে এবং যেকোনো সময় ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে শক্তিশালী এআই ব্যবহারের কথা বলে আসছেন। সোমবার প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, সুপারইন্টেলিজেন্স ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হলে মানুষ নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সুযোগ পাবে।
তবে মেটার সব শক্তিশালী এআই মডেল উন্মুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানটির আরও শক্তিশালী ‘মিউজ স্পার্ক’ মডেলের ওজন এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপরীতে গ্লিমার ডাউনলোড, পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারে চালানো যায়।
ফলে গ্লিমার মেটার এআই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে। ব্যবহারকারীদের জন্য কোন এআই সক্ষমতা উন্মুক্ত করা হবে আর কোন প্রযুক্তি মেটার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেই সীমারেখার একটি প্রাথমিক ধারণা দিচ্ছে নতুন মডেলটি।