ফোনের স্ক্রিনশট হতে পারে হ্যাকারদের অন্যতম টার্গেট

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৩

ফোনের স্ক্রিনশট হতে পারে হ্যাকারদের অন্যতম টার্গেট
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনে স্ক্রিনশট রাখা এখন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ছবি বা বার্তা দ্রুত সংরক্ষণ করতে অনেকেই স্ক্রিনশটের ওপর নির্ভর করেন। তবে এই সাধারণ অভ্যাসই হয়ে উঠতে পারে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির কারণ।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেক ইউজ অব (এমইউও) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্মার্টফোনের গ্যালারিতে সংরক্ষিত অন্তত সাত ধরনের সাধারণ স্ক্রিনশট হ্যাকারদের জন্য তথ্য চুরির বড় উৎস হতে পারে। এসব স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যক্তিগত, আর্থিক ও পেশাগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ফোনে সংরক্ষিত কিছু স্ক্রিনশট অপরাধীদের জন্য কতটা মূল্যবান হতে পারে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট

ব্যাংকের লেনদেন বা অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স মনে রাখার জন্য অনেকেই স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেন। তবে এসব স্ক্রিনশটে শুধু ব্যালেন্স নয়, ব্যাংকের নাম, লোগো, সাম্প্রতিক লেনদেনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে যায়। হ্যাকারদের হাতে এই স্ক্রিনশট গেলে তারা সহজেই ফিশিং বার্তা পাঠাতে বা আর্থিক প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে।

পাসওয়ার্ড বা লগইন স্ক্রিনশট

ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্যের স্ক্রিনশট অনেকেই রেখে দেন। কিন্তু গ্যালারিতে এসব ছবি রাখা নিরাপদ নয়। কারণ গ্যালারি সাধারণত এনক্রিপ্ট করা থাকে না এবং অনেক অ্যাপই এসব ছবিতে প্রবেশাধিকার পায়।

পরিচয়পত্র ও ভ্রমণ নথিপত্র

পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বোর্ডিং পাসের স্ক্রিনশট রাখার প্রবণতাও বেশ সাধারণ। অথচ এসব নথিতে নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বরসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকে। এসব তথ্য ফাঁস হলে হ্যাকাররা সহজেই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতে পারে।

ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট

টেক্সট মেসেজ, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট অনেকেই সংরক্ষণ করেন। এসব স্ক্রিনশটে ফোন নম্বর, ইউজারনেম কিংবা ব্যক্তিগত আলোচনা থেকে যেতে পারে। তথ্য ফাঁস হলে সেগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করা, ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যাদি

প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট বা হাসপাতালের বিলের স্ক্রিনশটে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য থাকে। এসব তথ্য ফাঁস হলে শুধু গোপনীয়তা লঙ্ঘনই নয়, বরং সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতে পারে।

অনলাইন শপিং কনফার্মেশন বা ই-টিকিট

অনলাইন কেনাকাটার রসিদ বা কোনো অনুষ্ঠানের ই-টিকিটের স্ক্রিনশটে থাকা কিউআর কোড বা বারকোড অন্য কেউ স্ক্যান করে ব্যবহার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চোরচক্র এসব তথ্য অনলাইনে বিক্রিও করে দেয়।

অফিসের নথিপত্রের স্ক্রিনশট

কাজের ফাইল, ক্লায়েন্ট ডেটা বা প্রজেক্ট পরিকল্পনার স্ক্রিনশট ফোনে সংরক্ষিত থাকলে তা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে শুধু ব্যক্তিগত চাকরিই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সাইবার জগতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত ফোনের স্ক্রিনশট ফোল্ডার পরীক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় ছবি মুছে ফেলতে। প্রয়োজন হলে স্ক্রিনশট অবশ্যই পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত বা নিরাপদ ফোল্ডারে সংরক্ষণ করা উচিত। আরও নিরাপদ উপায় হিসেবে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশ্লিষ্ট অফিশিয়াল অ্যাপে সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা, যেখানে ডেটা সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে।

সূত্র : মেক ইউজ অব

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন