নতুন পিসি ব্যবহারের আগে যে কাজগুলো জরুরি
নতুন পিসি কিনলেই অনেকে ভাবেন, এবার আর কিছু করার নেই। কিন্তু বাস্তবে বাক্স খুলে চালু করাই শেষ ধাপ নয়। বিশেষ করে উইন্ডোজ চালিত পিসিতে শুরুতেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলে সেটি হবে নিরাপদ, দ্রুত এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। সামান্য সময় দিলেই ভবিষ্যতের অনেক ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
নতুন ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহারের আগে যে কাজগুলো করা জরুরি, সেগুলো ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো-
শুরুতেই অ্যাকাউন্ট ঠিক করুন
প্রথমবার চালু করলে ভাষা, সময় অঞ্চল ও তারিখ ঠিক করতে বলা হবে। এরপর মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইনের পরামর্শ আসবে। এতে একাধিক পিসিতে সেটিংস ও পছন্দ একসঙ্গে রাখা যায়। চাইলেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখে লোকাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়। পরিবারের অন্য সদস্য বা শিশুদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট পরে যোগ করা সম্ভব।
অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সরান
নতুন পিসিতে অনেক সময় আগে থেকেই অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকে। এগুলো জায়গা নেয় এবং পিসি ধীর করে দেয়। একটি একটি করে সফটওয়্যার মুছে ফেলতে পারেন। বেশি থাকলে উইন্ডোজ রিসেট অপশন ব্যবহার করে সিস্টেম নতুনের মতো করা যায়। এতে কেবল প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকবে।
সব উইন্ডোজ আপডেট সম্পন্ন করুন
পিসি চালুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপডেটের নোটিফিকেশন আসবে। সেটিংস থেকে আপডেট অপশনে গিয়ে সব আপডেট নামিয়ে নিন। একবার আপডেট শেষ হলে আবার চেক করা ভালো। দুই বা তিনবার চালালে সাধারণত সব আপডেট সম্পূর্ণ হয়। শুরুর দিকে বায়োস বা ইউইএফআই আপডেট আছে কি না তাও দেখে নেওয়া ভালো।
নিরাপত্তা সফটওয়্যার চালু করুন
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার জরুরি। বিটডিফেন্ডার বা নর্টনের মতো প্যাকেজে বাড়তি নিরাপত্তা সুবিধাও থাকে। ফ্রি সমাধান চাইলে অ্যাভাস্ট ওয়ান বেসিক ব্যবহার করা যায়। উইন্ডোজের বিল্ট ইন ডিফেন্ডার উন্নত হলেও আলাদা নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করলে সুরক্ষা আরও ভালো পাওয়া যায়।
রিকভারি ব্যবস্থা তৈরি করুন
হঠাৎ কোনো বড় সমস্যা হলে যেন সহজে সিস্টেম ফিরিয়ে আনা যায়, সে জন্য রিকভারি ড্রাইভ তৈরি করা দরকার। ইউএসবি ড্রাইভ বা লোকাল পার্টিশন ব্যবহার করে ব্যাকআপ রাখা যায়। সিস্টেম ইমেজ তৈরি করলে ভবিষ্যতে উইন্ডোজ চালু না হলেও আগের অবস্থায় দ্রুত ফেরা সম্ভব।
পুরোনো ফাইল নতুন পিসিতে আনুন
ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করে ফাইল কপি করা যায়, তবে এতে সময় বেশি লাগে। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা। ড্রপবক্স, আইড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ বা মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভে ফাইল থাকলে নতুন পিসিতে লগইন করলেই সব পাওয়া যাবে। এতে ব্যাকআপও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়।
নিজের পছন্দের ব্রাউজার বেছে নিন
উইন্ডোজে আগে থেকেই এজ ব্রাউজার থাকে। চাইলে গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স ইনস্টল করা যায়। যে ব্রাউজারে আপনি স্বচ্ছন্দ, সেটিই ব্যবহার করা ভালো।
প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করুন
- অফিস কাজ, ছবি সম্পাদনা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সফটওয়্যার প্রায় সবারই দরকার।
- অনেক ফ্রি ও ওয়েবভিত্তিক বিকল্প রয়েছে।
- ভিপিএন ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে নিরাপত্তা ও সুবিধা দুটোই বাড়ে।
উইন্ডোজের দরকারি সেটিংস ঠিক করুন
- স্টার্টআপে কোন অ্যাপ চালু হবে তা নিয়ন্ত্রণ করুন।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যানিমেশন ও ভিজুয়াল ইফেক্ট বন্ধ করলে কিছু পিসিতে গতি বাড়ে।
- প্রয়োজনে র্যাম বাড়ানোও ভালো সমাধান হতে পারে।
পুরোনো হার্ডওয়্যার নতুন করে ভাবুন
- পুরোনো প্রিন্টার, স্ক্যানার বা ইউএসবি ডিভাইস নতুন পিসির সঙ্গে মানানসই কি না দেখুন।
- পুরোনো ডিভাইস ব্যবহার করলে সর্বশেষ ড্রাইভার ইনস্টল করা জরুরি।
- দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা ভালো।
পিসি ও সফটওয়্যার রেজিস্ট্রেশন করুন
- প্রস্তুতকারকের কাছে পিসি রেজিস্ট্রেশন করলে ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়া সহজ হয়।
- রিকল বা জরুরি নোটিশ এলে তথ্য পাওয়া যায়।
- রেজিস্ট্রেশনের সময় অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল অপশন বন্ধ রাখা ভালো।
নতুন পিসির শুরুটা যদি ঠিকভাবে করা যায়, তাহলে সেটি হবে দ্রুত, নিরাপদ এবং দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। এই কাজগুলো করলে নতুন পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে অনেক বেশি স্বস্তির।
সূত্র : পিসিম্যাগ