ভিডিও নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ আনছে এক্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে মৌলিক কনটেন্ট বাড়াতে নতুন ভিডিও রেকর্ডিং ও এডিটিং ফিচার চালু করেছে। লক্ষ্য হলো- নির্মাতাদের নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশে উৎসাহ দেওয়া, যাতে অন্যের কনটেন্ট পুনঃপ্রকাশের প্রবণতা কমে।
নতুন আপডেটে ভিডিওতে একাধিক ভাষায় ক্যাপশন যোগ করা ও এর নকশা কাস্টমাইজ করার সুবিধা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে গ্রিন-স্ক্রিন টুল, যা ব্যবহার করে ফোনের গ্যালারি বা এক্সের অন্য পোস্টের ছবি দিয়ে ভিডিও তৈরি করা যাবে।
এক্সের প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার এক পোস্টে জানান, নির্মাতাদের জন্য কার্যকর টুল সরবরাহ করা এবং মৌলিক কনটেন্টকে পুরস্কৃত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সামনে আরও উন্নত ফিচার যুক্ত করা হবে।
বিয়ারের মতে, এক্সে অনেক জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট এখনো পুরোনো ভাইরাল কনটেন্ট পুনরায় পোস্ট করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা প্ল্যাটফর্মের মৌলিক কনটেন্ট তৈরির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে শুধু ভিডিও এডিটর যোগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে হলে এক্সকে এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তারা প্রকৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং আয় করতে পারবেন। টিকটক, মেটা ও ইউটিউব ইতোমধ্যে এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
এছাড়া, কনটেন্ট চুরি হলে তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে এক্সের নিজস্ব কার্যকর টুল এখনো সীমিত। অন্যদিকে মেটা ও ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য কপিরাইট সুরক্ষায় উন্নত ব্যবস্থা চালু করেছে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বট বা স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের আধিক্য। এগুলো ভিউ বাড়ানোর পাশাপাশি কনটেন্ট চুরি ও পুনঃপ্রকাশে ভূমিকা রাখে। এক্স জানিয়েছে, তারা প্রতি মিনিটে শতাধিক বট শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করছে।
বিয়ার আরও বলেন, এক্সে ভিডিওভিত্তিক পোস্ট ইতোমধ্যে মোট ভিউয়ের প্রায় অর্ধেক দখল করেছে, তাই ভিডিও ফিচার উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এআই যুগে স্প্যাম ও বটের সমস্যা শুধু এক্সের নয়। রেডিটসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও একই সমস্যায় ভুগছে এবং সমাধানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
প্রাথমিকভাবে নতুন ভিডিও এডিটর ও রেকর্ডিং সুবিধা এক্সের আইওএস অ্যাপে চালু হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ এখনো উন্নয়নাধীন।