স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টের চাপে নেটফ্লিক্সের কৌশল বদলের ইঙ্গিত
স্ট্রিমিং দুনিয়ায় একসময় বিঞ্জ-ওয়াচিংয়ের মাধ্যমে দর্শনধারায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল নেটফ্লিক্স। তবে এখন সেই মডেলই চ্যালেঞ্জের মুখে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জনপ্রিয় অনেক সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই দর্শকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা বদলে যাওয়া কনটেন্ট ভোগের প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিরিজ বাতিলের প্রবণতা, মৌসুমের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি এবং অ্যালগরিদমনির্ভর কনটেন্ট তৈরির কারণে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, এখন নেটফ্লিক্সের প্রতিযোগী আর শুধু প্রচলিত টেলিভিশন নয়; বরং টিকটক, ইউটিউব ও অন্যান্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্ল্যাটফর্ম।
২০১৩ সালে ‘হাউস অব কার্ডস’-এর পুরো মৌসুম একসঙ্গে প্রকাশ করে নেটফ্লিক্স বিঞ্জ-ওয়াচিং সংস্কৃতির সূচনা করে। বিজ্ঞাপনহীন এই মডেলে দর্শক নিজেদের সুবিধামতো সময়েই একটানা সিরিজ উপভোগ করতে পারতেন, যা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দর্শকের মনোযোগের ধরন বদলে গেছে। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো সহজেই দ্রুত বিনোদন দিচ্ছে। ফলে কয়েক ঘণ্টা সময় পেলেই এখন অনেকেই নেটফ্লিক্সের বদলে টিকটক বা ইউটিউবেই সময় কাটাচ্ছেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক ব্যবহারের সময়ের দিক থেকে টিকটক ও ইউটিউব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ইউটিউব গড় দৈনিক দেখার সময়ের হিসেবে নেটফ্লিক্সকে ছাড়িয়ে গেছে, যা স্ট্রিমিং বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
এই পরিবর্তন বুঝেই নেটফ্লিক্স অ্যাপে টিকটক-ধাঁচের ফিড যুক্ত করেছে। তবে এটি এখনো মূলত কনটেন্ট খোঁজার মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে, সরাসরি বিনোদনের উৎস হিসেবে নয়।
এদিকে, মাইক্রোড্রামা অ্যাপগুলোর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে, যেখানে স্বল্প সময়েই একটি গল্প শেষ করা যায়। দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এমন কনটেন্টের দিকে দর্শকের ঝোঁক বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে নেটফ্লিক্সকে তাদের কনটেন্ট কৌশল নতুন করে ভাবতে হতে পারে। দীর্ঘ সিরিজের বদলে সীমিত পর্বের মিনিসিরিজ বা সম্পূর্ণ গল্পভিত্তিক কনটেন্টে গুরুত্ব বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে কনটেন্ট প্রকাশের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। সাপ্তাহিক পর্ব প্রকাশ বা ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে কনটেন্ট দেওয়ার মতো কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
টেলিভিশনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা জয়ের পর এখন নতুন বাস্তবতায় পড়েছে নেটফ্লিক্স। স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টের যুগে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে হতে পারে।