মাউস নজরদারি সফটওয়্যার ঘিরে মেটায় অস্থিরতা, কর্মীদের প্রতিবাদ
কর্মস্থলে নজরদারি বাড়ছে, আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন প্রযুক্তি কর্মীরা। মাউসের নড়াচড়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের সফটওয়্যার বসানোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার ভেতরে শুরু হয়েছে নীরব প্রতিবাদ। সামনে বড় ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে নতুন পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেটার কর্মীরা (১২ মে) মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কার্যালয়ে লিফলেট বিতরণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেখানে কর্মীদের কম্পিউটারে সম্প্রতি চালু করা মাউস নজরদারি সফটওয়্যারের বিরুদ্ধে অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষরের আহ্বান জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিফলেটের বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লিফলেটগুলো মিটিং কক্ষ, ভেন্ডিং মেশিন, এমনকি টয়লেট পেপার রাখার স্থানেও রাখা হয়। এতে লেখা ছিল, ‘কর্মীদের তথ্য আহরণ কারখানায় কাজ করতে চান না?’ এই বার্তায় সহকর্মীদের ভাবতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
এই প্রতিবাদ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মেটা তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছাঁটাই কার্যক্রম শুরুর এক সপ্তাহ আগেই লিফলেট বিতরণের এই ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ধীরে ধীরে শ্রম সংগঠনের প্রবণতা গড়ে উঠছে বলেও মনে করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে কর্মী কাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ একাংশ কর্মী এখন সংগঠিত হওয়ার পথ খুঁজছেন।
গত কয়েক মাস ধরে অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন ফোরামে কর্মীদের অসন্তোষ বাড়ছিল। তাদের আশঙ্কা, বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এই নজরদারি সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে কর্মীদেরই ভবিষ্যতে নিজেদের বিকল্প স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার জন্য তথ্য জোগাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন আগের একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়, মানুষের দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহার বুঝতে বাস্তব উদাহরণ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে মাউসের নড়াচড়া, বোতামে ক্লিক এবং বিভিন্ন মেনুতে চলাচলের তথ্য।
লিফলেট ও পিটিশনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শ্রম সম্পর্ক আইনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত।
এদিকে যুক্তরাজ্যেও মেটার একদল কর্মী ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা ইউনাইটেড টেক অ্যান্ড অ্যালাইড ওয়ার্কার্স নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সদস্য সংগ্রহ করছেন। এটি কমিউনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের একটি শাখা। কর্মীরা ‘লিনইন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গের বহুল আলোচিত বইয়ের নাম থেকে নেওয়া।
ইউনাইটেড টেক অ্যান্ড অ্যালাইড ওয়ার্কার্সের সংগঠক এলিনর পেইন বলেন, ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তের চাপ এখন কর্মীদের ওপর পড়ছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা যখন অনিশ্চিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশলে এগোচ্ছেন, তখন কর্মীদের সামনে ভেসে উঠছে চাকরি হারানোর শঙ্কা, কঠোর নজরদারি এবং নিজেদের বিকল্প তৈরির কঠিন বাস্তবতা।
সূত্র : রয়টার্স