মতামত

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির জন্য দায়ী কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৪

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির জন্য দায়ী কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন মনোবিজ্ঞান গবেষক পিটার গ্রে। তার নতুন বই রেস্টোরিং চাইল্ডহুড-এ তিনি দাবি করেছেন, এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের স্বাধীনতা কমে যাওয়া ও কঠোর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব বেশি।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রের বইটি মনোবিজ্ঞানী জোনাথন হেইটের দ্য অ্যাংজিয়াস জেনারেশন বইয়ের তত্ত্বের সরাসরি জবাব। হেইটের মতে, ২০১০ সালের পর কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার।

গ্রে বলছেন, বিভিন্ন গবেষণা ও সমন্বিত বিশ্লেষণে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়ের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতা বা উদ্বেগে থাকা কিশোরেরা এসব মাধ্যমকে তা মোকাবিলার উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ফ্লোরিডার একটি গবেষণার উদাহরণ দিয়ে গ্রে বলেন, ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী যেসব শিশুর স্মার্টফোন ছিল, তারা বাস্তব জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিল। তার মতে, শিশুদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখলে কিছু ক্ষেত্রে তাদের সুখ ও সামাজিক যোগাযোগ কমে যেতে পারে।

গ্রের দাবি, বিভিন্ন সময়ের গবেষণায় কিশোরেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে স্কুলের চাপকে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি মনে করেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে শিশুদের স্বাধীনতা ও অবাধ খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়াও তাদের মানসিক দৃঢ়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গ্রে ও হেইট দুজনই শিশুদের স্বাধীনতা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একমত হলেও ইন্টারনেটের প্রভাব নিয়ে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে। গ্রের মতে, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ঘরে ইন্টারনেটের ব্যবহার শিশুদের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা ও সামাজিক যোগাযোগের কিছু সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিল।

হেইটের তত্ত্ব অবশ্য একাধিক গবেষকের সমালোচনার মুখে পড়েছে। দ্য আটলান্টিককে দেওয়া বক্তব্যে হেইট বলেছেন, গ্রে সংখ্যালঘু একটি গবেষকগোষ্ঠীর মতামতের ওপর বেশি নির্ভর করছেন। তিনি আরও বলেছেন, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে কিশোরদের আত্মহত্যার হার কমার পেছনে সিসাযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ হওয়ার ভূমিকা থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে গ্রে সব ধরনের বিধিনিষেধের বিরোধী নন। স্কুলে ফোন নিষিদ্ধ করা বা পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে বয়স যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থা তিনি সমর্থন করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার কার্যকারিতা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে শিশুরা এসব মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের এসব মাধ্যম নিরাপদে ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো উচিত।

এদিকে কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশে উদ্যোগ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেও বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সুবিধার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

গ্রের মতে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তার আশা, শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয় ধারণার চেয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাই এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণে বেশি গুরুত্ব পাবে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন