প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত নকিয়া, জোরালো প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮

প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত নকিয়া, জোরালো প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত
ছবি : সংগৃহীত

এক সময় মোবাইল ফোনের বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নকিয়া। সময়ের পরিবর্তনে সেই অবস্থান হারালেও প্রতিষ্ঠানটি যে শেষ হয়ে যায়নি, সেটিই আবার নতুন করে প্রমাণ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা সেন্টার প্রযুক্তিকে ঘিরে বড় বিনিয়োগ নকিয়াকে ফিরিয়ে আনছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রযুক্তি বিশ্বে এটি নকিয়ার জোরালো প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া নকিয়ায় এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এনভিডিয়া নকিয়ার ২ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা অর্জন করছে। চুক্তির অংশ হিসেবে নকিয়া এনভিডিয়ার কাছে প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ নতুন শেয়ার ইস্যু করবে। প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ ডলার। এই ঘোষণার পর নকিয়ার শেয়ারের দাম একদিনেই ২১ শতাংশ বেড়ে যায়, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নকিয়া জানিয়েছে, এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেটওয়ার্কিং সমাধান এবং ডাটা সেন্টার অবকাঠামো উন্নয়ন। দুই প্রতিষ্ঠান মিলে এআই নির্ভর নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি এনভিডিয়ার ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামোয় নকিয়ার ডাটা সেন্টার যোগাযোগ প্রযুক্তি যুক্ত করার সুযোগ খোঁজা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, এনভিডিয়ার উন্নত চিপ ব্যবহার করে নকিয়া তাদের ফাইভ-জি এবং ভবিষ্যতের সিক্স-জি নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে। অন্যদিকে এনভিডিয়া তাদের নিজস্ব এআই ব্যবস্থায় নকিয়ার ডাটা সেন্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করবে।

বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসির হিসাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টার অবকাঠামোয় বৈশ্বিক ব্যয় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বিশাল বাজারের দিকে তাকিয়েই নকিয়া নতুন করে নিজেদের কৌশল সাজাচ্ছে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, নকিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতের সিক্স-জি প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করবে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি নতুন মাত্রা পাবে।

নকিয়ার প্রধান নির্বাহী জাস্টিন হটার্ড বলেন, এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি উচ্চগতির কম্পিউটিং প্রযুক্তিকে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করছে। তিনি জানান, নতুন এই প্রযুক্তি থেকে ২০২৭ সাল নাগাদ আয় আসতে শুরু করবে। শুরুতে ফাইভ-জি এবং পরে সিক্স-জি খাতে এর প্রভাব দেখা যাবে।

নব্বইয়ের দশকে মোবাইল ফোনের বাজারে নকিয়ার রাজত্ব ছিল। পরে স্মার্টফোন যুগে পিছিয়ে পড়লেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে মনোযোগ সরিয়ে নেয় টেলিকম নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো প্রযুক্তির দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনফিনেরা করপোরেশনকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে ডাটা সেন্টার খাতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে নকিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের মোবাইল ফোন নির্মাতা নকিয়া এখন আবারও প্রযুক্তি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। সময়ের সঙ্গে নিজেদের বদলে নেওয়ার এই সক্ষমতাই নকিয়াকে নতুন করে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।