ক্লাউড ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে এআই বিনিয়োগে আত্মবিশ্বাসী গুগল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যেই শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে গুগল। সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের ক্লাউড ব্যবসার দ্রুত প্রবৃদ্ধিই এআই বিনিয়োগকে যৌক্তিকতা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে তাদের ক্লাউড বিভাগের আয় ৮২ শতাংশ বেড়ে ২৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধি বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকেও এই খাতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে এআই সমাধান ও অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধিই এই সাফল্যের মূল কারণ। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্লাউড চুক্তির পরিমাণও বেড়ে ৫১৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা কোম্পানির জন্য শক্তিশালী সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, অ্যালফাবেটের মুনাফা বেড়ে ১১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গুগল সার্ভিসেস থেকেও আয় বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে।
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, এআই বিনিয়োগ তাদের ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার মতে, কোম্পানির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
এদিকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন, যা এর জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
তবে এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুগলের ব্যয়ও কম নয়। ডেটা সেন্টার, চিপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য চলতি বছরে ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে পিচাই বলেন, এই বিনিয়োগের সুফল ধীরে ধীরে মিলবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এর পূর্ণ প্রভাব দেখা যেতে পারে। বর্তমান চাহিদা ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রবণতা ইতিবাচক হওয়ায় কোম্পানি এই পথেই এগোতে চায়।