এআইয়ের ভীতি কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রচারের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৩

এআইয়ের ভীতি কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রচারের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এআই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক এবং তাদের একটি যৌথ অঙ্গীকারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ‘এআই’ না বলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এআই খাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে নতুন একটি উদ্যোগের ঘোষণাও দিয়েছেন।

টেকক্রাঞ্চের ‘ইকুইটি’ পডকাস্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় প্রতিবেদক কার্স্টেন কোরোসেক বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ এআইকে ঘিরে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা বদলানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। মানুষের মধ্যে এআই চাকরি কেড়ে নেবে, এটি ভীতিকর কিংবা ভবিষ্যতে মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কার বিপরীতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।’

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা ‘জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ নামে একটি যৌথ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন। এতে উন্নত এআই ব্যবস্থার দায়িত্বশীল উন্নয়ন ও ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে অঙ্গীকারটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প এটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

টেকক্রাঞ্চের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অঙ্গীকারটি নিজে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এমন একটি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়াই এআই নিয়ে চলমান বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সম্প্রতি ট্রাম্প এআই খাতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং এ খাতকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়। এর পর বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে যৌথ অঙ্গীকারে তার অংশগ্রহণ বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেইকে রাত ১০টার একটি নৈশভোজে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে তিনি মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। প্রতিরক্ষা দপ্তর অ্যানথ্রপিকের সমালোচনা করেছে। একই সময়ে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তির বিষয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

যৌথ অঙ্গীকারটি তৈরির প্রক্রিয়াতেও তাড়াহুড়োর কিছু চিহ্ন দেখা গেছে। এমনকি এতে ‘ইউনাইটেড স্টেটস’ লেখার ক্ষেত্রেও একটি বানান ভুল ছিল।

সব মিলিয়ে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির প্রচার হয়তো এআই নিয়ে মানুষের ধারণায় বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে এআইকে ঘিরে ভয়, চাকরি হারানোর আশঙ্কা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রযুক্তিটির ভাবমূর্তি নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন