বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেল ৪৪ উদ্ভাবন

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪

বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেল ৪৪ উদ্ভাবন

দেশের ৩৫৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪টি তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ ৯টি প্রকল্প চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি প্রকল্প মেরিট পুরস্কার পেয়েছে।

‘উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি, রূপান্তরকে অনুপ্রেরণা’ প্রতিপাদ্যে শনিবার ঢাকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার ভাউচার দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ইমদাদ উল বারী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তরুণদের অনেক ধারণা থাকলেও সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ সীমিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছেন। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের তরুণেরা যেন বিশ্বের উদ্ভাবকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, উদ্ভাবনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সাধনা প্রয়োজন। যারা এবার পুরস্কার পাননি, তারা কাজ চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারবেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশে উদ্ভাবনকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে। গবেষণার জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

যেভাবে নির্বাচিত হলো বিজয়ীরা

এ বছর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় পর্যায় থেকে মোট ৩৫৫টি প্রকল্প জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই শেষে ১১৮টি প্রকল্প চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় পর্যায়ের প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী শ্রেণির প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন করা হয়।

সরকার, ব্যাংক ও করপোরেট খাতের নির্বাহী, শিক্ষাবিদ, চেম্বার প্রতিনিধি, স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি সাংবাদিকদের নিয়ে ৪০ সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করে। উদ্ভাবনের স্বকীয়তা, জনসাধারণের উপযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রযুক্তির মান— এই চার মানদণ্ডে ডিজিটাল জাজিং পোর্টালের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

চ্যাম্পিয়ন ৯ প্রকল্প

প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সক্রিয় টেকনোলজিস লিমিটেডের ‘সক্রিয় ডিএমএস’, টেটন প্রাইভেট লিমিটেডের ‘মাই ইসিজিএআই’ এবং গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের ‘দ্য সুখী ওয়ে: কানেক্টেড কেয়ার থ্রু ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিসেস’।

শিক্ষার্থী শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এজেন্টআইএএম’, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ‘ক্রনিক’, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবর’ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের ‘ব্রেইলব্রিজ’।

ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘বিন্দো’।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে তিনটি, ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে একটি এবং শিক্ষার্থী শ্রেণিতে ছয়টি প্রকল্প উইনার নির্বাচিত হয়েছে। মেরিট পুরস্কার পেয়েছে ২৫টি প্রকল্প। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে পাঁচটি, ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে তিনটি এবং শিক্ষার্থী শ্রেণিতে ১৭টি প্রকল্প রয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন ও উইনার নির্বাচিত প্রকল্পগুলো এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স (অ্যাপিকটা) অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনীত হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’ প্রকল্পের দলনেতা সৌরভ তরফদার বলেন, প্রচলিত ব্রেইল প্রিন্টারের দাম প্রায় সাত লাখ টাকা। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সহজলভ্য নয়। এ সমস্যা সমাধানে তাঁদের দল প্রায় ২৮ হাজার টাকার মধ্যে একটি ব্রেইল প্রিন্টার তৈরি করেছে। পর্যাপ্ত অর্থায়ন পেলে এটি বড় পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন