বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬
এআই যুগে ‘টুল ইউজার’ নয় ‘টুল বিল্ডার’ হওয়ার আহ্বান জুনায়েদ কাজীর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাবে জুনিয়র পর্যায়ের প্রচলিত কাজ ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে তরুণদের শুধু ‘টুল ইউজার’ না হয়ে ‘টুল বিল্ডার’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নটোমেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও এআই বিশেষজ্ঞ ড. জুনায়েদ কাজী।
গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভো থিয়েটার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
প্যানেল আলোচনার নলেজ পার্টনার ছিল বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।

৩৫ বছর ধরে এআই খাতে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. কাজী বলেন, এআই প্রযুক্তির কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আসছে। আগে প্রচলিত সফটওয়্যার উন্নয়নকাজে জুনিয়র পর্যায়ের পদ বেশি ছিল। এখন জেনারেটিভ এআই ওয়েবসাইট তৈরি, ডেটা এন্ট্রি ও সাধারণ অটোমেশনের মতো জুনিয়র পর্যায়ের অনেক কাজ সহজেই করতে পারছে।
ফলে ক্লায়েন্টরা আলাদাভাবে জুনিয়র ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ না করে এআই ব্যবহার করছে বলে জানান তিনি।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন ড. কাজী। প্রথমত, শুধু অন্যের তৈরি এআই টুল ব্যবহার না করে নতুন টুল ও সিস্টেম তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুধু এআই জানা যথেষ্ট নয়; অ্যাকাউন্টিং, স্বাস্থ্যসেবা বা নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান বা ডোমেইন নলেজের সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় করতে হবে। এটিই বাজারে টিকে থাকার ‘মোড’ বা সুরক্ষাপ্রাচীর হিসেবে কাজ করবে।
তৃতীয়ত, এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করার সক্ষমতা থাকতে হবে। ড. কাজী বলেন, ‘জেনারেটিভ এআই প্রায়ই ভুল বা কাল্পনিক তথ্য দিতে পারে, যাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। ক্লায়েন্টের কাছে ভুল তথ্য যাওয়ার আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বা জাজমেন্ট কল করার সক্ষমতা ফ্রিল্যান্সারের থাকতে হবে।’
শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগের মুখস্থনির্ভর কারিকুলাম দিয়ে এআই যুগের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয়। প্র্যাকটিক্যাল ‘লার্নিং বাই ডুইং’ এবং প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন চালু করতে হবে।’
এ ছাড়া প্রযুক্তি শুধু ব্যবহার বা ভোগ করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূলের তরুণদের জন্য বাংলায় এআই ও কারিগরি বিষয়ক কনটেন্ট তৈরির ওপরও জোর দেন ড. কাজী।