চীনে ব্যবসা কমিয়ে নতুন কৌশলে মাইক্রোসফট
চীনে ব্যবসা কমাচ্ছে মাইক্রোসফট। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে অন্তত ১৫টি শাখা কার্যালয় ও যৌথ উদ্যোগ বন্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালে চীন ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করলেও এখন সে পরিকল্পনা নেই। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে চীন থেকে।
চীনের দেশীয় সফটওয়্যার নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় মাইক্রোসফটের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে চীন নিজস্ব সফটওয়্যারে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধে মাইক্রোসফটের এআই ও ক্লাউড ব্যবসাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
চীনা কোম্পানিগুলোকে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করে নতুন ব্যবসা গড়েছে মাইক্রোসফট। বাইটড্যান্স ও শেইনের মতো প্রতিষ্ঠান অ্যাজুর ক্লাউড ব্যবহার করে। অ্যাজুরে ওপেনএআইসহ পশ্চিমা এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি এটি মাইক্রোসফটের চীন-সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়।

চীনের প্রযুক্তি প্রতিভাও মাইক্রোসফটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০-এর দশক থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশটির প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। গবেষণাগারের সাবেক কর্মীদের অনেকে সেন্সটাইম ও ডিপসিকের মতো প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে আছেন।
চীনের সরকারি সফটওয়্যার বাজারেও মাইক্রোসফট পিছিয়েছে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ছয়টি সরকারি ক্রয় নির্দেশিকার পাঁচটিতে মাইক্রোসফটের পণ্য সুপারিশ করা হয়নি। নির্দেশিকাগুলো ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে।
মাইক্রোসফটের সাবেক চীনপ্রধান অ্যালাঁ ক্রোজিয়ের বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা কঠিন হলেও সরকারের সঙ্গে বড় কোনো সংকট হয়নি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, চীনের বাজারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির নিয়ম মেনেই ব্যবসা করছে।