জাকারবার্গের এআই পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। তবে তার এই পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যে সমালোচনা বাড়ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ৬ হাজার ৫০০ শব্দের এক নিবন্ধে জাকারবার্গ এমন এক ভবিষ্যতের কথা বলেন, যেখানে প্রত্যেক মানুষের জন্য থাকবে অত্যন্ত সক্ষম ব্যক্তিগত এআই সহকারী। তার দাবি, এসব এআই সহকারী ব্যবহারকারীর লক্ষ্য, আগ্রহ ও প্রয়োজন বুঝে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।
তবে প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, জাকারবার্গের এই বার্তা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে না। কারণ অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে মেটা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
টেকক্রাঞ্চের ‘ইকুইটি’ পডকাস্টে অংশ নেওয়া সাংবাদিক রেবেকা বেলান বলেন, মেটা বর্তমানে এআই খাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যবহারের জন্য এআই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
জাকারবার্গের ধারণা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে এআই দিয়ে সময়সূচি পরিচালনা, বার্তা লেখা, ফাইল গোছানোসহ নানা কাজ করতে পারবেন। এসব সেবা সব সময় চালু থাকবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কাজ করতে পারবে।
তবে সমালোচকদের মতে, মেটা একদিকে উন্মুক্ত এআই ব্যবহারের কথা বললেও অন্যদিকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কিছু মডেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ফলে প্রযুক্তিটি কতটা উন্মুক্ত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, জাকারবার্গের এআই-কেন্দ্রিক ভবিষ্যৎচিত্রে সম্ভাবনার কথা বেশি বলা হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়গুলো তুলনামূলক কম গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণেই তার এআই পরিকল্পনা নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা দুটিই বাড়ছে।