এআই ঘিরে বিনিয়োগ বাড়ালেও চাকরি বিতর্কে মেটা
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এআই নিয়ে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা মানুষের জন্য এক ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তিই উল্টো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এআইকে ঘিরে যে কাজ হচ্ছে, তা সামগ্রিকভাবে অনেক নতুন চাকরি সৃষ্টি করেছে, কারণ এর জন্য বিশাল অবকাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে।’
তবে এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন তার নিজের প্রতিষ্ঠানই বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছে। মে মাসে মেটা প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে, যা তাদের মোট কর্মশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে এআই-সংক্রান্ত কাজে পুনর্বিন্যাস করা হয়। ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামোয় ১৩০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
জাকারবার্গের যুক্তি মূলত এআই অবকাঠামো নির্মাণকে কেন্দ্র করে। বর্তমানে মেটা বিশ্বজুড়ে ৩২টি ডেটা সেন্টার পরিচালনা করছে বা নির্মাণ করছে। এসব প্রকল্পে নির্মাণ শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কুলিং ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, যা মূলত এআই প্রযুক্তির চাহিদার কারণেই সম্ভব হচ্ছে।
বৃহত্তর পরিসরে দেখা গেলে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত এআই ব্যয় ২০২৬ সালে ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অ্যালফাবেট প্রায় ২০৫ বিলিয়ন এবং মাইক্রোসফট প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
তবে মেটার অভ্যন্তরীণ চিত্র ছিল ভিন্ন। ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয় বিভিন্ন অঞ্চলে ই-মেইলের মাধ্যমে, যা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এমনকি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মীকেও ছাঁটাই করা হয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির কিছু নীতিমালা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, বিশেষ করে এমন একটি প্রোগ্রাম নিয়ে যা কর্মীদের কাজের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এদিকে বিনিয়োগকারীরাও প্রশ্ন তুলছেন, এই বিপুল বিনিয়োগের ফল কী। মেটার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ৯১ শতাংশ কমে ৭৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। যদিও একই সময়ে কোম্পানির আয় ২৮ শতাংশ বেড়ে ৬০.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবুও শেয়ারমূল্য পতন ঘটেছে।
জাকারবার্গ বিশ্লেষকদের জানান, ভবিষ্যতে কম্পিউটিং সক্ষমতাই একটি পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মেটা ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যে কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব পাচ্ছে। তবে স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য তা বিক্রি না করে, নিজস্ব এআই মডেল ও ব্যক্তিগত এআই সহকারী তৈরিতে ব্যবহার করার পক্ষেই তিনি মত দেন।
সব মিলিয়ে, জাকারবার্গের বক্তব্য অনুযায়ী এআই একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, অন্যদিকে বাস্তবে অনেক কর্মীর চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে। ফলে প্রযুক্তির এই রূপান্তরের লাভ-ক্ষতি দুই দিক নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।