ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতির নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ফ্রিল্যান্সাররা প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইলসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশ থেকে অর্জিত আয় দেশে আনতে পারবেন। এতে প্রচলিত রপ্তানি নথিপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

ক্ষুদ্র লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সেবা রপ্তানির আয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অর্থ দেশে আনতে হবে।

এ নির্দেশনায় ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে সহজ ও কার্যকর করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) নামে পরিচিত। এর ফলে তারা বিদেশি মুদ্রায় আয় করা অর্থের একটি অংশ ডলারে রেখে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সেবা বা বিজ্ঞাপনের মতো ব্যয় সহজে মেটাতে পারবেন। অন্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনতে উৎসাহিত হবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি সেবা রপ্তানি খাতের প্রকৃত আয় নিরূপণ করাও সহজ হবে

উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত থেকে বৈদেশিক আয় বাড়লেও এতদিন জটিল নথিপত্র, অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারে আগ্রহ হারাতেন। নতুন এই উদ্যোগ সেই বাধাগুলো দূর করার পথ তৈরি করেছে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন