মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে এগোচ্ছে ফিজিক্যাল এআইয়ের উন্নয়ন

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮

মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে এগোচ্ছে ফিজিক্যাল এআইয়ের উন্নয়ন

মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে রোবটকে আরও দক্ষ করে তোলার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, যা ফিজিক্যাল এআই উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদ্ধতিতে মানুষের চিন্তা, মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়ার ধরণ বিশ্লেষণ করে রোবটকে বাস্তব কাজ শেখানো হচ্ছে।

এই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এনকর্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের জন্য ডেটা তৈরি ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করে। তাদের পরীক্ষাগারে কর্মীরা বিশেষ হেডসেট পরে বিভিন্ন কাজ করছেন, যা তাদের দৃষ্টির পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকলাপও রেকর্ড করে।

এই প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা করছে জার্মানির একটি নিউরোসায়েন্স স্টার্টআপ ‘জ্যান্ডার ল্যাবস’। তাদের তৈরি হেডসেট মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারে কখন কেউ ভুল করছে, কী করতে চায় বা কোনো ঘটনায় বিস্মিত হচ্ছে। এসব তথ্য রোবটকে আরও নিখুঁতভাবে প্রশিক্ষণ দিতে সহায়তা করছে।

ডেটা ঘাটতি কাটানোর নতুন পথ

ফিজিক্যাল এআই উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা হলো বাস্তব জগতের পর্যাপ্ত ডেটার অভাব। চ্যাটবটের মতো শুধু অনলাইনের তথ্য দিয়ে রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় না। কারণ রোবটকে বাস্তব পরিবেশে কাজ করতে হলে বাস্তব অভিজ্ঞতার ডেটা প্রয়োজন হয়, যা সংগ্রহ করা কঠিন ও ব্যয়বহুল।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে গবেষকরা “ইগোসেন্ট্রিক ডেটা” ব্যবহার করছেন, যেখানে মানুষ ক্যামেরা পরে কাজ করে এবং সেই তথ্য রোবটকে শেখানো হয়। এর সঙ্গে মস্তিষ্কের সংকেত যুক্ত হলে রোবট মানুষের মানসিক অবস্থাও বুঝতে পারবে, যা প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে ডেটা

গবেষণাগারে কর্মীরা বিভিন্ন বাস্তব কাজের মাধ্যমে ডেটা তৈরি করছেন, যেমন ব্লক সরানো, কফি ঢালা বা তার সংযোগ দেওয়া। এসব কাজের সময় মানুষের হাতের নড়াচড়া, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মস্তিষ্কের সংকেত একসঙ্গে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এছাড়া বাহুতে সেন্সর লাগিয়ে পেশির বৈদ্যুতিক সংকেতও নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। এই সমন্বিত ডেটা ভবিষ্যতে রোবটকে আরও জটিল কাজ শেখাতে সহায়ক হবে।

খরচ ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এই প্রযুক্তি সম্ভাবনাময়, তবে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যয়। উন্নতমানের বাস্তব ডেটা তৈরি করতে প্রচুর সময়, শ্রম ও অর্থ লাগে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহের তুলনায় এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় ফিজিক্যাল এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।

সম্ভাবনার দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মস্তিষ্কের সংকেতভিত্তিক এই ডেটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে রোবট প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি আসবে। এতে রোবট আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে

ফলে ভবিষ্যতে গুদাম ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে রোবটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র : টেকক্রাঞ্চ

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন