স্টিভ জবসের ২৫ বছরের পুরোনো কৌশলে ফিরছেন অ্যাপল

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৬

স্টিভ জবসের ২৫ বছরের পুরোনো কৌশলে ফিরছেন অ্যাপল

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কৌশলের কেন্দ্রে আইফোনকেই রাখতে চান। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো অ্যাপলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ব্যবহারকারীর বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র হিসেবে আইফোনের চেয়ে ভালো পণ্য নেই।’ তার এই কৌশলের সঙ্গে ২৫ বছর আগের স্টিভ জবসের পরিকল্পনার মিল রয়েছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টার্নাসের অবস্থান তার পূর্বসূরি টিম কুকের কৌশল থেকে কিছুটা ভিন্ন। কুক বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, অ্যাপল শুধু আইফোননির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়। টার্নাস বরং আইফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ের জবাব দিয়েছেন আইফোনকেই আরও গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে।

আইফোন হবে প্রযুক্তিকেন্দ্র

টার্নাসের পরিকল্পনায় আইফোন শুধু একটি স্মার্টফোন নয়, বরং ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত সহকারী’ হিসেবে কাজ করবে। তার মতে, এমন একটি কেন্দ্রীয় যন্ত্রে শক্তিশালী প্রসেসর, উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরা, সব সময় সংযুক্ত থাকার সুবিধা এবং যন্ত্রের ভেতরেই এআই ব্যবহারের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এসব সুবিধাই আইফোনকে এআই যুগের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকেন্দ্রে পরিণত করছে।

আইফোনের শক্তিশালী প্রসেসিং সক্ষমতা ও বহনযোগ্যতাও অ্যাপলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ফোনই এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং যন্ত্র। ল্যাপটপ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্ভব হলেও ফোন ছাড়া বের হওয়া অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব।

২৫ বছর আগে একই কৌশল নিয়েছিলেন জবস

টার্নাসের পরিকল্পনার সঙ্গে ২০০১ সালের স্টিভ জবসের কৌশলের মিল রয়েছে। সে সময় ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। অনেকে মনে করছিলেন, নতুন ডিজিটাল যন্ত্রের কারণে পিসির গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।

২০০১ সালে ম্যাকওয়ার্ল্ড নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে জবস বলেন, পিসি মারা যাচ্ছে না, বরং সময়ের সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে। তার পরিকল্পনায় ম্যাককে ডিজিটাল ক্যামেরা, ক্যামকর্ডার ও ডিভিডি প্লেয়ারের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রের কেন্দ্র বা ‘ডিজিটাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল।

আইপড থেকে আইফোন

ওই বছরই জবস আইপড উন্মোচন করেন। সংগীত শোনার ছোট এই যন্ত্রটি অ্যাপলের বড় সাফল্যে পরিণত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে আইপডের সাফল্য আইফোন তৈরির পথও তৈরি করে।

এখন আইফোনের ২০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে এসে টার্নাসও একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি। তবে আইফোনের পর কী আসবে, তা খোঁজার বদলে আইফোনকেই আরও শক্তিশালী প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি।

নতুন প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আইফোনের বিকল্প হিসেবে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিপণ্যসহ নানা ধরনের নতুন যন্ত্র তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যই আইফোনের জায়গা নিতে পারেনি।

টার্নাস তাই নতুন কোনো প্রযুক্তিপণ্যের পেছনে আইফোনকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে এটিকেই আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আইফোনের অবস্থান ধরে রাখতে আইপডের মতো কোনো নতুন পণ্য অ্যাপল গোপনে তৈরি করছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও অ্যাপলের কৌশলের কেন্দ্রে থাকবে আইফোন।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন