জোরপূর্বক এআই ব্যবহারে অনীহা, বিকল্প খুঁজছে ব্যবহারকারীরা
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক শ্রেণির ব্যবহারকারীর মধ্যে বিরক্তি ও অস্বস্তিও বাড়ছে। অনেকেই এখন জোর করে এআই ব্যবহারের পরিবর্তে বিকল্প পথ খুঁজছেন, আর সেই চাহিদা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে শুরু হয়েছে বিশেষ কর্মশালা।
‘এভয়ডিং এআই’ নামে পরিচিত এসব কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে মোবাইল ফোন, অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত এআই ফিচারগুলো বন্ধ করা যায়। দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ার এক গ্রন্থাগারিক চার্লি বেইলি তার কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে এই প্রক্রিয়া দেখান।
কর্মশালার শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ ফোন বের করতে বলা হয়। এরপর ধাপে ধাপে দেখানো হয় কীভাবে বিভিন্ন ডিভাইসে থাকা স্বয়ংক্রিয় এআই সুবিধা নিষ্ক্রিয় করা যায়। বিশেষ করে ইমেইল লেখা, সারসংক্ষেপ তৈরি বা অনুসন্ধান ফলাফলে যুক্ত এআই ফিচার বন্ধ করার পদ্ধতি শেখানো হয়।
আয়োজকদের মতে, অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন তারা না চাইতেই এআই প্রযুক্তির মধ্যে ঢুকে পড়ছেন। ফলে তারা জানতে চাইছেন কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়। এই কর্মশালাগুলো সেই চাহিদা পূরণেই কাজ করছে।
মেইনের আরেক গ্রন্থাগারিক হান্না সাইরাস প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেন। তার কর্মশালায় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ অংশ নিতে আগ্রহ দেখান। পরে অনলাইনে সম্প্রচারসহ আয়োজন করতে হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্ত হন।
সাইরাস জানান, মানুষ প্রতিনিয়ত জানতে চাইছেন কীভাবে ডিভাইসে থাকা এআই ফিচার বন্ধ করা যায়। অনেকের অভিযোগ, তারা নিজেরাই সহজ কাজ করতে সক্ষম হলেও এআই তা অপ্রয়োজনীয়ভাবে করে দিতে চায়।
ফিলাডেলফিয়াতেও একই ধরনের সাড়া মিলেছে। একটি কর্মশালার ঘোষণা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পায় এবং অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে দ্বিতীয় সেশন আয়োজন করতে হয়।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বেশিরভাগই এআই পুরোপুরি বাতিল করতে চান না; বরং তারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসছে। এআই এড়ানোর এই উদ্যোগ আসলে প্রযুক্তির বিরোধিতা নয়, বরং সচেতন ও বেছে নেওয়া ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ