মেমোরির দামের চাপ সামলাতে দ্বিমুখী কৌশলে ইন্টেল
বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার বাজারে মেমোরির দামের চাপ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে ইন্টেল। একদিকে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি, অন্যদিকে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে পুরোনো মেমোরি প্রযুক্তির সমর্থনও চালু রাখছে।
তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত কম্পিউটেক্স ২০২৬ মেলায় ইন্টেলের ক্লায়েন্ট কম্পিউটিং গ্রুপের পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিশ বলেন, মেমোরির অতিমূল্য পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। বাজারে ভারসাম্য আনতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টেল তাদের বিদ্যমান কিছু প্ল্যাটফর্মকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে। যেমন র্যাপ্টর লেক এবং ওয়াইল্ডক্যাট লেক প্ল্যাটফর্ম এখনো ডিডিআর৪ মেমোরি সমর্থন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পণ্য বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই এবং সাশ্রয়ী হলে পুরোনো প্রযুক্তির জন্য সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে কম মেমোরিতে কার্যকর পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিচ্ছে ইন্টেল। ওয়াইল্ডক্যাট লেক প্ল্যাটফর্মে ৮ গিগাবাইট মেমোরি দিয়েও ডিভাইস চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা কম দামের ল্যাপটপ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইন্টেলের মতে, বর্তমানে মেমোরি ও সংরক্ষণ ব্যয়ের বৃদ্ধি এতটাই বেশি যে প্রসেসর আর এককভাবে কম্পিউটারের দাম নির্ধারণ করছে না। ফলে পুরো বাজারেই এর প্রভাব পড়ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মেমোরি সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করছে ইন্টেল। চীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নির্মাতাদের যাচাই করে বাজারে বিকল্প বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে ব্যবহারকারীরা কিছুটা স্বস্তি পান।
এদিকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান এএমডি পুরোনো স্থাপত্যভিত্তিক কিছু প্রসেসর আবার বাজারে এনেছে। অন্যদিকে কোয়ালকম নিম্নমূল্যের ল্যাপটপ বাজারে নতুন চিপ নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, মেমোরির দামের চাপ সামাল দিতে ইন্টেল একদিকে নতুন উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে সাশ্রয়ী ও পুরোনো প্রযুক্তিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্র : টমস হার্ডওয়্যার