শিল্প বিপ্লবে নতুন চালিকাশক্তি রোবট
বিশ্বজুড়ে শিল্প উৎপাদনে দ্রুত বাড়ছে রোবটের ব্যবহার। কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পথ বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে স্থাপিত নতুন শিল্প রোবটের অর্ধেকেরও বেশি স্থাপন করা হয়েছে একক দেশেই। এতে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনে তাদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও লজিস্টিকসসহ নানা খাতে এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরে বিশ্বে মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার রোবট স্থাপন করা হয়েছে একটি দেশেই। ফলে বর্তমানে দেশটিতে সক্রিয় রোবটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখের বেশি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।
এই রোবটগুলো গাড়ি সংযোজন, ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি এবং পণ্য পরিবহনের মতো কাজে ব্যবহার হচ্ছে। শ্রমশক্তি কমে যাওয়ার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা পূরণ করছে এসব স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। ফলে জনসংখ্যা কমলেও উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
জনসংখ্যা হ্রাসের প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট। ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে জনসংখ্যা। গত বছর প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কমেছে, যা মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক এক শতাংশ। তবে রোবট ব্যবহারের ফলে শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো আরও বেশি রোবট দিয়ে করা হবে। উন্নত শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে উৎপাদন প্রতিযোগিতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
স্বয়ংক্রিয়তার পরবর্তী ধাপ হিসেবে মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের রোবট জটিল ও মানুষের মতো কাজ করতে সক্ষম। ইতিমধ্যে বয়স্কদের যত্নে ব্যবহারের জন্য বড় অর্ডারও পাওয়া গেছে।
তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির মাঝেও দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রায় ৫ কোটি শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের শিল্পখাত টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র : বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড