এআই ছবি বিতর্কে আয়ারল্যান্ডে গ্রোকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
বাস্তব মানুষের আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরির অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নতুন বিতর্কে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন কনটেন্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। এই প্রেক্ষাপটে গ্রোকের এআই চ্যাটবটকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আয়ারল্যান্ড, যা ইউরোপজুড়ে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন জানিয়েছে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স প্ল্যাটফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট গ্রোককে ঘিরে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রোক ব্যবহারকারীর অনুরোধে বাস্তব মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করছে এবং ক্ষতিকর যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছে। এমনকি শিশুদের নিয়েও এ ধরনের ছবি তৈরির সম্ভাবনার বিষয়টি তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক্সের কার্যক্রমের প্রধান কার্যালয় আয়ারল্যান্ডে হওয়ায় দেশটির ডেটা প্রোটেকশন কমিশনই এই বিষয়ে প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাধারণ ডেটা সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বৈশ্বিক আয়ের চার শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।
কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এক্স তাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করেছে কি না তা যাচাই করা। গত মাসে ব্যবহারকারীদের অনুরোধে বাস্তব মানুষের প্রায় নগ্ন বা বিকৃত ছবি তৈরি করে গ্রোক প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে এক্স কর্তৃপক্ষ গ্রোকের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ছবি তৈরি বন্ধে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে চলতি মাসের শুরুতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে গ্রোক এখনও এমন ছবি তৈরি করতে পারছে।
ইউরোপীয় কমিশন গত ২৬ জানুয়ারি ইউরোপে গ্রোক অবৈধ কনটেন্ট ছড়াচ্ছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে আলাদা তদন্ত চালু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য ইউরোপীয় প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত জরিমানা এক ধরনের করের মতো। ইলন মাস্কও ইউরোপীয় অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের নানা বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
ডেটা প্রোটেকশন কমিশনের উপকমিশনার গ্রাহাম ডয়েল বলেন, গ্রোক ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এক্সের ইউরোপীয় ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। এখন বড় পরিসরে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার মৌলিক দায়িত্বগুলো তারা মানছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্র : দ্য ভার্জ