পোশাকের পর সেমিকন্ডাক্টরই অর্থনীতির নতুন হাতিয়ার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী। তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর এই খাতকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বড় ধরনের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিজয় স্মরণীর নভোথিয়েটারে জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প একটি কৌশলগত খাত হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বড় বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি সম্মেলনকে দেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্মাতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান।
সরকারি প্রণোদনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা চালু রয়েছে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়ন এবং বিশেষায়িত সেমিকন্ডাক্টর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ খাতের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিজ্ঞানীদের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, আইসিটি বিভাগের উপদেষ্টা রেহান আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এম আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার।
সম্মেলনের মূল কী-নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়ন উদ্যোগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন।