ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার বন্ধ করবেন যেভাবে
ডিজিটাল জীবনে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করি। অনেক সময় অজান্তেই আমাদের তথ্য সামাজিক মাধ্যমে চলে যায়। এতে করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে। তবে এখন ব্যবহারকারীরা সহজেই দেখতে পারবেন কোন ওয়েবসাইট তাদের তথ্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পাঠাচ্ছে। চাইলে সেই তথ্য মুছে ফেলা বা ভবিষ্যতে শেয়ার বন্ধ করাও সম্ভব।
কোন তথ্য সংগ্রহ করা হয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মেটা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলে, অ্যাপ খুললে, পণ্য খুঁজলে বা কেনাকাটা করলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হতে পারে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।
নিজস্ব তথ্য নিয়ন্ত্রণের উপায়
তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য চালু আছে ‘ইউর অ্যাক্টিভিটি অব মেটা টেকনোলজিস’ সুবিধা। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি অপশনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর অ্যাকাউন্টস সেন্টার থেকে ‘ইউর ইনফরমেশন অ্যান্ড পারমিশনস’ নির্বাচন করে ‘ইউর অ্যাক্টিভিটি অফ মেটা টেকনোলজিস’ অপশন বেছে নিলেই তালিকা দেখা যাবে।
নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বিচ্ছিন্ন করা
সাম্প্রতিক কার্যক্রম তালিকা থেকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে ডিসকানেক্ট অপশন চাপলে তাদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার বন্ধ হবে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুবিধাও রয়েছে। আগের সব তথ্য মুছে ফেলতে ক্লিয়ার প্রিভিয়াস অ্যাক্টিভিটি ব্যবহার করা যায়। ভবিষ্যতে কোনো ওয়েবসাইট তথ্য পাঠাতে না পারে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ম্যানেজ ফিউচার অ্যাক্টিভিটি থেকে।
তথ্য ডাউনলোড ও সংরক্ষণ
ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের তথ্য ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এ তথ্য কম্পিউটার, মোবাইল বা ক্লাউড সেবায় রাখা যায়। নির্দিষ্ট সময়সীমা, তথ্যের ধরন ও ফরম্যাট নির্বাচন করে ডাউনলোড শুরু করা যায়।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকআপ সুবিধা ব্যবহার করে ফোন নম্বর, ই-মেইল ও জন্মতারিখসহ ব্যক্তিগত তথ্যের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নিরাপত্তা বাড়াতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা করলে অনলাইন জীবনে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়। সচেতন ব্যবহারই ডিজিটাল নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া