আইফোন ডুওর চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে অ্যাপল
ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে অ্যাপল। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। মেমোরি চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাস রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বেশি সংখ্যক গ্রাহকের কাছে আইফোন ডু পৌঁছে দিতে কাজ করছে অ্যাপল। তবে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য কবে ফিরবে, তা এই মুহূর্তে অনুমান করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত মাসে নিজেদের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও উন্মোচন করে অ্যাপল। ফোনটির দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। এতে রয়েছে বাইরের দিকে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি এবং ভেতরে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে।
ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরুর পরপরই বরাদ্দ করা ইউনিট শেষ হয়ে যায়। কিছু ক্রেতার কাছে ফোন পৌঁছাতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। উদ্বোধনের সময় বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও সীমিতসংখ্যক আইফোন ডু সরবরাহ করেছিল অ্যাপল।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধিও অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ২০২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর আয়বিষয়ক এক সম্মেলনে জন টার্নাস বলেন, ‘বর্তমানে মেমোরির দাম যে হারে বাড়ছে, তা নজিরবিহীন। আগামী ডিসেম্বর প্রান্তিকে মেমোরির দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সম্প্রতি পণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।’
এদিকে আইফোন ডুয়ের ডিসপ্লেতে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেছেন টার্নাস। তার দাবি, এ সমস্যার কারণে ফেরত আসা ফোনের সংখ্যা খুবই কম। তবে সমস্যাযুক্ত ফোনগুলো পরিবর্তন করে দিচ্ছে অ্যাপল।
সাধারণ আইফোন ১৮ মডেল বাজারে না আনলেও চতুর্থ প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি থেকে রেকর্ড ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।